স্টেশন ব্যবহারে মাশুল দিতে হবে যাত্রীদের, ঘুরপথে বাড়ছে রেলভাড়া

1141

নয়াদিল্লি : গঙ্গাজলে গঙ্গা পুজোর নীতি নিয়ে এগোচ্ছে ভারতীয় রেল। বেসরকারি সংস্থাগুলির হাতে দেশের একাধিক লাভজনক এবং ব্যস্ততম রুট তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল আগেই। এবার ঠিক হয়েছে, ওই রুটগুলিতে ট্রেনভাড়া নির্ধারণ করবে বেসরকারি সংস্থাগুলিই। ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলি ওই রুটগুলির গন্তব্যের মধ্যে চলাচলকারী এসি বাস ও বিমানের ভাড়া বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেবে। এছাড়া বিমানবন্দরের ধাঁচে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন ব্যবহারের জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মাশুলও নেবে ভারতীয় রেল। দেশের বিমানবন্দরগুলিতে যাত্রীদের থেকে ইউজার ডেভেলপমেন্ট ফি নেওয়া হয়। ভারতের ব্যস্ত রেলস্টেশনগুলি ব্যবহারের জন্য রেলয়াত্রীদের থেকে একইভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হবে। রেলবোর্ডের সিইও ভিকে যাদব জানিয়েছেন, যাত্রীদের কাছ থেকে স্টেশন ব্যবহার বাবদ আদায় করা অতিরিক্ত মাশুল দিয়ে রেলস্টেশনগুলিকে আধুনিক করে তোলা হবে। আরও বেশি লগ্নি টানতে রেল নেটওয়ার্কের পরিকাঠামোও আধুনিক করা হবে। অর্থাৎ বেসরকারি ট্রেনে সফরের ভাড়া ও স্টেশন ব্যবহারের মাশুল মিলিয়ে ভারতীয় রেল যে সাধারণ যাত্রীদের থেকেই মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করতে চলেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

ভারতে রেলভাড়ার বিষয়টি বরাবরই সংবেদনশীল। অস্ট্রেলিয়ায় মোট জনসংখ্যা যত, ততজন যাত্রী প্রতিদিন ভারতে ট্রেনে সফর করেন। এই যাত্রীদের সিংহভাগ গরিব। রেলের মতো সস্তার গণপরিবহণের ওপর নির্ভর করে এদেশে একটা বড় অংশের মানুষের রুজিরুটি চলে। মোদি সরকার ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণ ও যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের নামে সেই রেলযাত্রাকে মহার্ঘ করে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এতে সাধারণ গরিব মানুষের পক্ষে ট্রেনে ওঠা ক্রমশ দুঃসাধ্য হয়ে উঠতে চলেছে। ভিকে যাদব অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, সারাদেশে মোট স্টেশনের সংখ্যা ৭ হাজার। তার মধ্যে যে সব স্টেশনে প্রচুর ভিড় হয়, সেরকম মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ স্টেশনে এই ইউজার ডেভেলপমেন্ট ফি আদায় করা হবে। অর্থাৎ ৭ হাজার স্টেশনের মধ্যে ৭০০ থেকে ১০০০টি স্টেশনের ভাড়া খানিকটা বাড়বে। সেই ভাড়া কতটা, সেটা অবশ্য জানাননি ভিকে যাদব। তবে পাশাপাশি রেলবোর্ডের সিইও এও জানিয়েছেন যে, আগামী দিনে দেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে এই ফি বসানো হবে। নিত্যযাত্রীদের মধ্যে ট্রেন ভাড়ার পাশাপাশি এই অতিরিক্ত ফি নিয়ে অসন্তোষ তৈরির সম্ভাবনা থাকলেও ভিকে যাদব মনে করেন, স্টেশন ব্যবহারের মাশুল নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের ওপর তার খুব একটা প্রভাব পড়বে না। ভাড়া বাড়বে নামমাত্র।

- Advertisement -

বেসরকারি ট্রেনের ভাড়া সম্পর্কে রেলবোর্ডের সিইও বলেছেন, ভাড়া বেসরকারি সংস্থাগুলি নিজেদের মতো করে ঠিক করবে। ইতিমধ্যে অ্যালস্টম, বম্বার্ডিয়ার, জিএমআর ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এবং আদানি এন্টারপ্রাইজের মতো বেসরকারি সংস্থা ট্রেন চালানোর ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বেসরকারি ট্রেন চালানোর মাধ্যমে মোদি সরকার আগামী পাঁচবছরে ৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লগ্নির আশা করছে। দেশের মোট ১০৯টি রুটে বেসরকারি ট্রেন ছুটবে। তার জন্য দিল্লি, মুম্বইয়ের মতো একাধিক রেলস্টেশনকে আধুনিক করে তোলা হচ্ছে।