সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি : ধূপগুড়ি পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রনগর এলাকায় কুমলাই নদীর বাঁধের ওপরে তৈরি রাস্তার কিছু অংশ দুবছর য়াবৎ রেইনকাটের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, বহুবার বিষয়টি পুর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি মেরামত করা হয়নি। বর্তমানে যা পরিস্থিতি তাতে আগামী বর্ষায় বাঁধের এই অংশ ধসে যেতে পারে বলেই বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন।

২০১২ সালে ধূপগুড়ি পুরসভায় তৃণমূলের বোর্ড ক্ষমতায় আসার পর শহরের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে জোর দেওয়া হয়। এজন্য শহরজুড়ে বামনি ও কুমলাই নদীর ওপরে বেশ কিছু জয়েস্ট ফুটব্রিজ তৈরি করা হয়। এর সঙ্গেই দুই নদীর বাঁধের ওপর দিয়ে হাঁটার জন্য পেভার্স ব্লক দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়। যাতায়াতের জন্য কুমলাই নদীর বাঁধের ওই রাস্তাটির উপর নদীর দুধারের ১৩ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের রায়পাড়া, বর্মনপাড়া, দুই নম্বর ব্রিজ এলাকার বহু মানুষ ভরসা করেন। হাঁটা ছাড়াও সাইকেল ও বাইক নিয়ে বাসিন্দারা এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন।

বাঁধের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নদীর দুধারের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি উদ্বেগও রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিধান পাল বলেন, আমরা প্রতিদিন বহুবার এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। দুবছর আগে বর্ষার সময় বাঁধের কোনায় রাস্তা কিছুটা বসে গিয়েছিল। গত দুই বছরে তা মেরামত না হওয়ায় ক্রমাগত মাটি ধসে গিয়ে এখন পেভার্স ব্লক খুলে যাচ্ছে। এমন চলতে থাকলে আগামী বর্ষায় রাস্তাটি পুরোপুরি ধসে গিয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে। বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই পথে আলোর ব্যবস্থা করার কথা জানালেও তা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ। তাঁদের দাবি, রাতে অন্ধকারের সুযোগে বাঁধের রাস্তায় অসামাজিক কার্যকলাপ এবং নেশার আসর বসে।

তাছাড়া এলাকার বাসিন্দাদের আশঙ্কা, রেইনকাটের ফলে ধসে যাওয়া বাঁধের ওই অংশ দিয়ে কুমলাই নদীর জল শহরে ঢুকতে পারে। সেক্ষেত্রে নদীর ধারের ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা প্লাবিত হবে। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সমীর দাস বলেন, সন্ধ্যার পর বাঁধের রাস্তায় বহিরাগত যুবকদের আড্ডা বসে। আলো না থাকায় নেশার আসরও বসানো হয়। রাস্তার দুপাশের জঞ্জাল সাফাই না হওয়ায় সাপ সহ অন্য পোকামাকড়ের ভয় নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এবার বাঁধের ওপর ওই অংশ মেরামত না হলে আগামী বর্ষায় কুমলাইয়ে জল ওয়ার্ডে ঢুকতে পারে। পুরসভা বাঁধ মেরামত করে আলোর ব্যবস্থা করলে ভালো হয়।

এ প্রসঙ্গে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুজাতা সরকার বলেন, গতবছরই বিষয়টি পুর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একটি দল ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঘুরে দেখেছে। আমি যতদূর জানি, আগামী বর্ষার আগেই ওই অংশটি মেরামত করা হবে। তবে আমি ফের এ বিষয়ে উদ্যোগী হব। বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে উপপুরপ্রধান রাজেশকুমার সিং বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি পরিদর্শন করে পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা বিস্তারিত রিপোর্ট বানিয়েছেন। ইঁদুরে মাটি সরানোয় ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। মেরামতির প্রক্রিয়া চলছে। আগামী বর্ষার আগেই ওই অংশ ঠিক করা হবে।