উত্তরবঙ্গ ব্যুরো, ১৪ জুলাই : শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে সারা রাত বৃষ্টিতে বন্যাপরিস্থিতি দেখা দিয়েছে জলপাইগুড়ি শহরে। গত ২৪ ঘণ্টায় জলপাইগুড়ি শহরে বৃষ্টি হয়েছে ২০৪ মিলিমিটার। তিস্তার অসংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সংকেত জারি রয়েছে বলে সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। শনিবার রাতে বাড়ি ফেরার সময় জলে ডুবে মৃত্যু হয়ে হয়েছে এক ব্যক্তির। মৃতের নাম বিমল শীল (৫০)। তাঁর বাড়ি সদর ব্লকের সানুপাড়া এলাকায়।  রাতে রেসকোর্স পাড়ায় নিজের দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় রাস্তায় জমা বৃষ্টির জলে ড্রেনের উপস্থিতি বুঝতে না পেরে তিনি জলে পড়ে ডুবে যান। রবিবার সকালে ওই এলাকায় জল কিছুটা কমলে তাঁর মৃতদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।  রাতভর বৃষ্টিতে করলার জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে শহরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের নীচ মাঠ এলাকা। এছাড়ার করলা জল ঢুকেছে শহরের দিনবাজার, সমাজপাড়া, ইন্দিরা কলোনি, রাজবাড়িপাড়া এলাকা। বৃষ্টির জলে জলবন্দি অবস্থা তৈরি হয়েছে পুরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডে। বৃষ্টির জলে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহরের মহামায়াপাড়া, পান্ডাপাড়া, মোহন্তপাড়া, নিউটাউনপাড়া, আদরপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকা। এই এলাকাগুলোর বেশিরভাগ বাড়ির ভেতরে জলঢুকে গিয়েছে। জল জমার কারণ হিসেবে বেহাল নিকাশি ব্যাবস্থাকেই দায়ী করছেন সাধারণ মানুষ।

পুরসভার চেয়ারম্যান পারিষদের সদস্য সন্দীপ মাহাতো বলেন, শহরের ২৫টি ওয়ার্ডে কম বেশি জল রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। ত্রাণের ব্যাবস্থা করা হচ্ছে পুরসভার তরফে।

জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের খারিজা বেরুবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন নতুনবন্দর শিশুশিক্ষা সংলগ্ন কেন্দ্র এলাকায় প্রবল বৃষ্টিতে জলের তোড়ে  রাস্তার একাংশ ভেঙে গিয়েছেবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা।  শনিবার রাতের টানা বৃষ্টির জেড়ে নতুনবন্দর থেকে গোয়ালডাঙ্গা পাকা সড়কের একাংশ ধসে যায়।

শনিবার রাতের ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টির চাপে বিপর্যস্ত হলদিবাড়ির স্বাভাবিক জনজীবন।ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে হলদিবাড়ি শহরে। শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রচুর গাছ উপড়ে পড়ে বহু বাড়িঘর ভেঙেছে। বিদ্যুতের তার ছিড়ে প্রায় গোটা শহর বিদুৎহীন। বাড়ির উঠোন ও রাস্তা জলের তলায়। সকাল থেকে পুর কর্মীরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করছে। গাছ উপরে পরে বহু রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে।

ছবি- করলার জলে ভাসছে জলপাইগুড়ির দিনবাজার।