রাজার জন্মদিনে দেশজুড়ে অঙ্কন-কুইজ, জেনে নিন কে এই রাজা

91

মাদারিহাট: রাজার ২৫তম জন্মদিন বলে কথা। আট কেজি গোমাংসের সঙ্গে সাড়ে তিন কেজি মেটে মিশিয়ে দুপুরের খাবার সদ্য শেষ হয়েছে। বুড়ো রাজার দাঁত নড়ে যাওয়ায় সোমবার মেনুতে বেশ কিছুটা মাংস হাড় ছাড়াই ছিল। তাই খুব একটা কসরৎ করতে হয়নি দেশের ‘প্রবীণতম’ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে। খাবার আগেই অবশ্য রাজাকে প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে স্নান করানো হয় এদিন।

শুধু খয়েরবাড়ি বা বাংলাতে নয়। রাজা এখন ভারতবর্ষেই পরিচিত নাম। তাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজার জন্মদিন পালন করতে কার্পণ্য করেননি বনকর্তারা। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বনাধিকারিক দীপক এম জানান, অনলাইনে দেশ জুড়ে রাজার জন্মদিনে কুইজ ও অঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ২০১৩ সালের অগাস্টে সুন্দরবনের ঝড়খালিতে মাতলা নদী পার হওয়ার সময় কুমিরের আক্রমণে পড়েছিল রাজা। ২৩ অগাস্ট তাকে দক্ষিণ খয়েরবাড়ি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনা হয়। সেই থেকে ১০ বাই ১৫ ফুটের ঘরটিই রাজার স্থায়ী ঠিকানা। ওই দিনটিই ওর জন্মদিন।

- Advertisement -

সোমবার ভোরের আলো ফুটতেই রাজার হুংকারে ঘুম ভেঙে যায় সকলের। ঘুম ভেঙে যায় রাজার পালক পার্থসারথি সিনহার। কৃষ্ণেন্দু আদকের নেতৃত্বে রাজার প্রতিকৃতিতে ফুল ও মালা দিয়ে ওর দীর্ঘায়ু কামনা করেন বনকর্মীরা। পার্থসারথি বলেন, ‘যখন আনা হয়েছিল ওর পায়ের যন্ত্রণা দেখে চোখে জল এসে গিয়েছিল। সেই রাজা এবার ২৫ বছরে পা রাখল। সেদিন ভাবতেই পারছিলাম না রাজাকে বাঁচাতে পারব। তবে চিকিৎসক এবং স্যারদের জন্যই আজ রাজা এত বছরেও বেঁচে রয়েছে। আর বাঘেদের ইতিহাস ঘাটলে জানা যায়, এত বছর বাঁচা মানে মানুষের ক্ষেত্রে ১২৫ বছর বাঁচা।’

ন্যাফের কোঅর্ডিনেটর অনিমেষ বোস জানান, যেদিন রাজাকে বিধ্বস্ত শরীরে দক্ষিণ খয়েরবাড়িতে আনা হয়েছিল সেদিন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেদিন দেখেছিলেন রাজা কতটা যন্ত্রণায় কাতর হয়ে চিৎকার করছিল। রাজার দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন তিনি।