৩০ বছরেও পাকা রাস্তা হয়নি রাজাডাঙ্গায়

কৌশিক দাস, ক্রান্তি : মাল ব্লকের রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের মহাকাল মোড় থেকে চেল নদীর বাঁধ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা ৩০ বছর ধরে একই অবস্থায় রয়ে গিয়েছে। আপালচাঁদ জঙ্গল ঘেঁষা এলাকার এই রাস্তা গ্রামবাসীর কাছে প্রায় নরকযন্ত্রণার শামিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাধিকবার প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানালেও কোনও কাজ হয়নি। এই রাস্তা দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগী নিয়ে যেতে কার্যত কালঘাম ছোটে গ্রামবাসীদের। তাই পাকা রাস্তার দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অধিকাংশ গ্রামবাসী কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। বাজারহাট অথবা দৈনন্দিন কাজে ক্রান্তি কিংবা মালবাজার যেতে হলে একমাত্র ভরসা এই রাস্তাটি। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর বক্তব্য, গরমের দিনে রাস্তার ধুলোয় চলাফেরা করাই দায়। অন্যদিকে, বর্ষার সময় রাস্তার মাঝে বিরাট বিরাট গর্ত তৈরি হয়। গর্তে জল জমে হামেশাই দুর্ঘটনা ঘটে। কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় ফসল হাটে নিজে যেতেও সমস্যায় পড়েন কৃষকরা। তাঁদের অভিযোগ, রাস্তা পাকা করার দাবিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানানো হলেও তাঁরা কোনও গুরুত্ব দেননি। বেহাল রাস্তার জেরে রোগী কিংবা গর্ভবতীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে সমস্যা হয়। একাধিক প্রাথমিক স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে এলাকায়। সেখানেও যাতায়াতে সমস্যা হয়।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা ডোলো রায় বলেন, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে এলাকার কয়ে হাজার মানুষ চলাচলের সমস্যায় পড়েন। প্রশাসনের উচ্চস্তরে আমরা অনেকবার জানালেও কোনও সুরাহা হয়নি। স্থানীয় স্বদেশ রায়, সোনা অধিকারী জানান, বছরের পর বছর গ্রামবাসীরা এভাবেই বঞ্চনার শিকার হয়ে চলেছেন। প্রশাসন তাঁদের দাবির কোনও গুরুত্ব দেয় না। অন্যান্য এলাকার মানুষ ঝাঁ চকচকে রাস্তা পেলেও এই এলাকার মানুষ চির অবহেলিত হয়ে রয়েছেন। এ বিষয়ে রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আব্দুল মোতালেব হোসেন বলেন, আমরা ঊর্ধ্বতন মহলে রাস্তার বিষয়টি পাঠিয়ে দিয়েছি। টাকার ব্যবস্থা হলে রাস্তার কাজ শুরু হবে।