দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ রাজীবের

1838
ফালাকাটার পূর্ব কাঁঠালবাড়িতে তৃণমূলের কর্মীসভায় বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

ফালাকাটা: ফালাকাটায় দলের খারাপ পরিস্থিতির জন্য যে দুর্নীতিগ্রস্ত একাংশ নেতাই দায়ী তা বুঝে গিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য নেতারা। তাই উপনির্বাচনের আগে ওইসব নেতাদের আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দিলেন ফালাকাটা আসনের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তিনি পূর্ব কাঁঠালবাড়ির অঞ্চল ভিত্তিক কর্মীসভায় স্বীকার করেন যে, নেতৃত্বের ভুল ভ্রান্তির জন্যই দল থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তাই নেতাদের প্রতি বিতৃষ্ণার কথা তুলে ধরে রাজীব প্রকাশ্যেই বলেন, ‘দুষ্টু গোরুর চেয়ে শূণ্য গোয়াল ভালো।’ পূর্ব কাঁঠালবাড়িতে সাংগঠনিক দুর্বলতাও এদিন রাজীবকে ব্যথিত করে। এখানে প্রতি মাসে সাংগঠনিক বৈঠক কেন হয় না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতটি ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। গত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে এই গ্রাম পঞ্চায়েতে ভোট বেশি পায় বিজেপি। ফালাকাটা উপনির্বাচনে সেই ঘাটতি কতটা পূরণ হবে তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে। তবে উপনির্বাচনকে টার্গেট করে এদিন পূর্ব কাঁঠালবাড়ির মেজবিলে একটি প্রাইমারি স্কুলের মাঠে তৃণমূলের অঞ্চল ভিত্তিক কর্মীসভা হয়। সেখানে শুরুতেই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এই অঞ্চলের সংগঠন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কারণ, গত নির্বাচনে পূর্ব কাঁঠালবাড়িতে তৃণমূল অধিকাংশ বুথেই বিজেপির থেকে ভোট কম পেয়েছে। তাই রাজীব দলীয় সংগঠন নিয়ে বলেন, ‘এখানে তো শুধু সং দেখছি, গঠন বলে কিছু আছে বলে মনে হয় না। কারণ, গত লোকসভা নির্বাচনে এখানে ২০টি বুথের মধ্যে ১৯টিতে দল হেরেছে।’ তারপর তিনি এক বছরে দল হেরে যাওয়ায় এখানে কেন পর্যালোচনা বৈঠক হয়নি তা জানতে চেয়ে ব্লক নেতাদের প্রকাশ্যেই ভৎর্সনা করেন।

- Advertisement -

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের দামামা বেজে গিয়েছে। অথচ এখানে সংগঠনকে চাঙ্গা করার কোনও তাগিদ নেই।’ সূত্রের খবর, এই অঞ্চলটি দুটি ব্লকের মধ্যে থাকায় নেতৃত্বের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে। ব্লক নেতৃত্বের দূরত্ব নিয়ে রাজীব বলেন, ‘এই অঞ্চলটি দুটি ব্লকের মধ্যে থাকায় নেতৃত্বের মধ্যে সামঞ্জস্য নেই।’ তাই তিনি দলের আলিপুরদুয়ার-১ ব্লক সভাপতিকে মনোরঞ্জন দে-কে পূর্ব কাঁঠালবাড়ি দেখার জন্য কড়া নির্দেশ দেন।

পিকে’র সমীক্ষায় ফালাকাটার একাধিক নেতার বিরুদ্ধে দলের উপরমহলে রিপোর্ট গিয়েছে। এদিন প্রকাশ্যে কয়েকজন বুথকর্মীও স্থানীয় কিছু নেতার অহংকারের জন্য যে মানুষ দূরে সরে যাচ্ছে তা তুলে ধরেন। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বুথকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা ওইসব নেতাদের আইসোলেশনে থাকতে বলুন। এখানে শূণ্য থেকে শুরু কর‍তে হবে। দুষ্টু গোরুর চেয়ে শূণ্য গোয়াল ভালো। সব রিপোর্ট সংগ্রহ হচ্ছে। প্রয়োজনে ওইসব নেতাদের দল থেকেই বের করে দেওয়া হবে। দল এসব আর রেয়াত করবে না।’

বুথকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারাই দলের সম্পদ। তাই ওইসব নেতাদের তালিকা তৈরি করুন। আমরাও খোঁজ নিচ্ছি। কারণ দলে এখন শুদ্ধিকরণ চলছে। আপনারা মাথা উঁচু করে কাজ করুন। লিফলেট নিয়ে বাড়ি বাড়ি যান। যেভাবেই হোক, ফালাকাটায় ২০১৯-র ফলাফল বদলাতেই হবে।’ এছাড়াও এদিন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বুথ ভিত্তিক রিপোর্ট নিয়ে বক্তব্য রাখেন। ফালাকাটায় উপনির্বাচন যে আগামী নভেম্বর মাসেই হতে পারে তা নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন দলের উত্তরবঙ্গের কোর কমিটির কনভেনার বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘দলের যোদ্ধারা তৈরি হন। কারণ, নভেম্বরের শেষের দিকেই এই উপনির্বাচন হবে। আর এই ভোটেই বিজেপিকে চরম শিক্ষা দিতে হবে।’ এদিনের কর্মীসভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সন্তোষ বর্মন, মনোরঞ্জন দে, সুভাষ রায়, সঞ্জয় দাস, রণেশ রায়তালুকদার, নিরঞ্জন রায় প্রমুখ।