প্রচারে বিদায়ি বিধায়ককে তির, উঠোন বৈঠকে জোর টাইগারের

108

রাঙ্গালিবাজনা: ভোটারদের বাড়ির উঠোনে উঠোনে ঘুরছেন মাদারিহাটের তৃণমূল প্রার্থী রাজেশ লাকড়া ওরফে টাইগার। চাইছেন ভোট। বাড়ির উঠোনে বসে ভোটারদের পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনাও সারছেন তিনি। শনিবার সকাল থেকে মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়ান তিনি। গত ১০ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার কি কি জনকল্যাণমুখী প্রকল্প চালু করেছে, তার খতিয়ান তুলে ধরে ভোট চান টাইগারবাবু।

সকাল সকাল গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। বীরপাড়ার কয়েকটি জায়গায় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার পর খয়েরবাড়ি, ছেকামারি, দলদলিয়া গ্রামগুলিতে পাঁচ-ছয়টি বাড়িতে উঠোন বৈঠক করেন তৃণমূলের প্রার্থী। সঙ্গে ছিলেন চা বাগান তৃণমূল কংগ্রেস মজদুর ইউনিয়নের সদস্য উত্তম সাহা, দলের জেলা সম্পাদক রশিদুল আলম, ব্লক কমিটির সহ সভাপতি দ্বীপনারায়ণ সিনহা, সংখ্যালঘু সেলের ব্লক সভাপতি ফজলুল ইসলাম প্রমুখ।

- Advertisement -

টাইগারবাবু বলেন, ‘নির্বাচনী বিধি মোতাবেক পাঁচজনের বেশি সদস্য একসঙ্গে প্রচার করতে গেলে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে। তাই প্রচারে একসঙ্গে চার-পাঁচ জনের বেশি বের হচ্ছি না। প্রচারে মূলত উঠোন বৈঠকে জোর দেওয়া হচ্ছে।’

এদিন প্রচারে বেরিয়ে বারবার মাদারিহাটের বিজেপির বিদায়ি বিধায়ক মনোজ টিগ্গার সমালোচনা করেন টাইগার। বীরপাড়ায় প্রচারে বেরিয়ে লেভেল ক্রসিংয়ের যানজটে আটকে পড়লে গাড়ি থেকে নেমে সেখানেই তিনি আটকে থাকা লোকজনের সঙ্গে যানজটের সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। পরে তিনি বলেন, ‘গত বিধানসভা ভোটের আগে মনোজ টিগ্গা লেভেল ক্রসিংয়ের জায়গায় ওভারব্রিজ তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পাঁচ বছরে তিনি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারলেন না।’ ছেকামারি, খয়েরবাড়ি, রাঙ্গালিবাজনা সহ বিভিন্ন এলাকায় পথ চলতি লোকজন, দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। বিজেপির বিদায়ি বিধায়ক মনোজ টিগ্গাকে এতদিন ধরে এলাকায় দেখা গিয়েছিল কি না, তা জানতে চান তিনি। তাঁরা র‍্যাশন পাচ্ছেন কি না, তাও এলাকার বাসিন্দাদের কাছে তিনি জানতে চান। এছাড়া এলাকার মেয়েরা কন্যাশ্রীর টাকা, সবুজ সাথীর সাইকেল পেয়েছে কি না, তা নিয়ে খোঁজখবর নেন তিনি। ছেকামারি গ্রামটি বোড়ো জনজাতি অধ্যুষিত। সেখানে তাঁর গলায় ছিল বোড়ো সম্প্রদায়ের ট্র্যাডিশনাল উত্তরীয়। টাইগারবাবু পরে সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি ডুয়ার্সের ভূমিপূত্র। আমি জানি কিভাবে ভোট পেতে হয়।’

বানারহাটের লক্ষ্মীপাড়া চা বাগানের বাসিন্দা রাজেশ লাকড়া ওরফে টাইগার এবার মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রের বাইরের এলাকার বাসিন্দাকে প্রার্থী করায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল দলের অন্দরেই। তবে সেই ‘মান অভিমানের’ পর্ব চুকে গিয়েছে বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের। এদিন বীরপাড়া ও গোপালপুর চা বাগানেও যান টাইগারবাবু। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বীরপাড়া চা বাগানে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চা বাগান নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে এদিন ওই চা বাগানে বিজেপিকে তুলোধোনা করেন তিনি।

বিজেপির বিদায়ি বিধায়ক মনোজ টিগ্গা বলেন, ‘আমি সারাবছরই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছি। অপপ্রচার করে কোনও লাভ হবে না। বীরপাড়ায় লেভেল ক্রসিংয়ের জায়গায় ওভারব্রিজ তৈরি করার জন্য ৫০ শতাংশ টাকা আগেই দিতে চেয়েছিল রেল দপ্তর। বাকি ৫০ শতাংশ টাকা রাজ্য সরকার দিতে রাজি হয়নি বলেই ওভারব্রিজ তৈরি হয়নি।’