চারাগাছ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত রাজীব, তদন্তে নামল প্রশাসন

235

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ : নার্সারি থেকে চারাগাছ কেনায় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠল রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। রাজীবকে নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর তোপ দাগার ঠিক পরের দিনই রাজ্যের প্রাক্তন বনমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলল শাসকদল। এই মর্মে উত্তর দিনাজপুরের জেলা শাসকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীকেও বিষয়টি জানিয়েছেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। শাসকদলের অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমেছে জেলা প্রশাসন।

তৃণমূলের উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, বিনা টেন্ডারে কোটি টাকার গাছ বিলি করা হয়েছে। বাস্তবে যেসব জায়গায় গাছ বিলি করার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে বিলি করা হয়নি। আমি জেলা শাসককে তদন্ত করতে বলেছি। তিনি আরও বলেন, কয়েক কোটি টাকার সবুজশ্রী প্রকল্পের গাছ লাগানোর বরাত দেওয়া হয়েছিল রায়গঞ্জের এক শিল্পপতিকে। তিনি সেই চারাগাছগুলি না বিলি করে টাকা তুলেছেন। এব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছি। বিনা টেন্ডারে বেসরকারি সংস্থা থেকে প্রায় ৭০ কোটি টাকার চারাগাছ কেনা হয়েছে। বন দপ্তরের বাগানে চারাগাছ তৈরি না করে বেসরকারি নার্সারি থেকে বিনা টেন্ডারে বেশি দরে গাছ সংগ্রহ করার অভিযোগ উঠেছে বনবিভাগের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, গাছ বিলি না করে কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন দপ্তর ও রায়গঞ্জ বনবিভাগের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও রায়গঞ্জ বিভাগের বন আধিকারিক সোমনাথ সরকার অনিয়মের ঘটনা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনের নির্দেশেই চারাগাছ কেনা হয়েছিল। রায়গঞ্জের এক শিল্পপতি বরাত পেলেও আমরা কোনও টাকা পেমেন্ট করিনি।

- Advertisement -

এদিকে, জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, চারাগাছ তৈরির জন্য বন দপ্তরের পর্যাপ্ত পরিকাঠামো রয়েছে। তারপর কেন বাইরের সংস্থা থেকে চারাগাছ কেনার দরকার হল, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, রায়গঞ্জ বনবিভাগের মুখ্য কার্যালয় রয়েছে কর্ণজোড়ায়। এদিন তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল অভিযোগ করেন, বেআইনিভাবে চারাগাছ সরবরাহ সহ প্রায় ১০০ কোটি টাকা তছরুপ করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন প্রাক্তন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা থেকে জেলা তৃণমূল যুবর সভাপতি গৌতম পাল ফোনে জানান, এক শিল্পপতিকে বরাত দিয়ে বেআইনিভাবে কোটি কোটি টাকার চারাগাছ কেনা হয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য এসেছে। আদতে কোনও গাছ লাগানোই হয়নি। প্রায় ১০০ কোটি টাকার নয়ছয় করা হয়েছে। সেকারণেই আমি আজ কলকাতায় এসে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বকসি ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। বিষয়টি জেলা শাসক তদন্ত করছেন। এদিকে, বেসরকারি সংস্থা মারফত চারাগাছ সংগ্রহের ঘটনায় কোনও অন্যায় দেখছেন না বিভাগীয় বন আধিকারিক সোমনাথ সরকার। তাঁর সাফ জবাব, কোনও টাকাই পেমেন্ট করা হয়নি। সবকিছু সরকারি নির্দেশ মেনে হয়েছে।

উল্লেখ্য, চারাগাছ দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী ২০১৬ সালে সবুজশ্রী প্রকল্প চালু করেছিলেন। উত্তর দিনাজপুর জেলায় ৯৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় সমসংখ্যক গ্রাম পঞ্চায়েতে ১০০ দিনের কাজের মাধ্যমে চারাগাছ বিলির নির্দেশও দিয়েছিলেন। সেই মোতাবেক এই পাঁচ বছর ধরে কাজ হয়েছে। বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ি বলেন, যখন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলে ছিলেন, তখন কেন তদন্ত করা হয়নি। এখন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাই পরিকল্পনা করে রাজীববাবুকে ফাঁসাতে চক্রান্ত করা হচ্ছে।  উত্তর দিনাজপুরের জেলা শাসক অরবিন্দকুমার মিনা অবশ্য এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।