রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফাপত্র গ্রহণ রাজ্যপালের

294

কলকাতা: রাজ্য মন্ত্রীসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর রাজভবনে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের সঙ্গে দেখা করেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যপালের হাতে ইস্তফাপত্র দেন। টুইট করে সেকথা জানান রাজ্যপাল।

- Advertisement -

মন্ত্রীত্ব ছাড়ার কথা এদিন ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। পদত্যাগপত্র পাঠানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আড়াই বছর আগেই মন্ত্রিত্ব ছাড়তে চেয়েছিলেন। তখন তাঁকে নিরস্ত করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘কাউকে দোষ দেব না। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। আমাকে সেচ দপ্তর থেকে সরানো হয়। তবে সৌজন্য দেখিয়ে সরালে ভালো হত। সতীর্থদের কিছু কথা খারাপ লেগেছে। কখনও ভাবিনি এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী কাজের সুযোগ দিয়েছেন। যতদিন বেচে থাকব কৃতজ্ঞ থাকব। মানুষের জন্য কাজ করা এখনও বাকি আছে। কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করব না।’ মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও এখনও ডোমজুড়ের বিধায়ক পদেই রয়েছেন তিনি। দলের প্রাথমিক সদস্যপদও ছাড়েননি।

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে ফেসবুক লাইভে এসে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কয়েকটি সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দলের মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেও তিনি সরব হন। মন্ত্রিসভার পাঁচটি বৈঠকে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। এরপরই জল্পনা তৈরি হয়, তবে কি শুভেন্দু অধিকারীর পথে হেঁটে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন তিনি? কিছুদিন আগেই টালিগঞ্জের এক অরাজনৈতিক সভায় গিয়েও দলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন রাজীব। হাওড়ার আর এক মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লাও কয়েকদিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে শনিবার রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার ঠিক আগেই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা নিয়ে জল্পনা চলছে রাজ্য রাজনৈতিক মহলে।