জল্পনার অবসান, বিজেপিতে যোগ সপারিষদ রাজীবের

195
অমিত শা'র বাড়িতে রাজীব-বৈশালী সহ অন্যরা।

উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২১-এ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ঘাসফুল শিবিরে চিন্তা বাড়িয়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া। এছাড়া বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ, হাওড়ার প্রাক্তন মেয়র রথীন চক্রবর্তী, তৃণমূল বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল। শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শা’র বাড়িতে বিজেপিতে যোগ দেন তাঁরা। যদিও রাজীব-বৈশালীদের বিজেপিতে যোগদানকে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি এই দলবদলকে পাত্তা দিতে নারাজ।

এদিন বিশেষ বিমানে রাজীব-বৈশালীরা দিল্লি যান। দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়িতে ৪৫ মিনিট বৈঠক হয়। তারপরই বিজেপিতে যোগ দেন রাজীব, বৈশালী, রুদ্রনীল, রথীন, প্রবীর। গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজীর জানান, তিনি খুশি। রাজনীতি নয়, রাজ্যের উন্নয়নই তাঁর মূল লক্ষ্য। রাজ্যের জন্য স্পেশাল প্যাকেজ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বেকারদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে তিনি কাজ করবেন। এবিষয়ে অমিত শা’র সঙ্গে কথা হয়েছে।

- Advertisement -

এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়াও। বৈশালী জানান, তিনিও বিজেপিতে যোগ দিয়ে খুশি। বাংলার উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করবেন তিনি। অন্যদিকে, রথীন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, আগামীতে বাংলার স্বার্থেই তিনি কাজ করবেন। এদিকে, রবিবার ডুমুরজলায় বিজেপির যোগদান মেলা রয়েছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন রাজীব সহ দিল্লি ফেরৎ নেতারা। বিজেপি সূত্রের খবর, সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দিতে পারেন অমিত শা।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে মেদিনীপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা’র জনসভায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী, বিধায়ক শুক্রা মুণ্ডা সহ একঝাঁক তৃণমূল নেতা। তারও আগে কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে দিল্লি গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন কোচবিহার উত্তরের বিধায়ক মিহির গোস্বামী। এদিন ফের ঘাসফুল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন আরও একঝাঁক তৃণমূল নেতা। ফলে বিধানসভা নির্বাচনের আগে অনেকটাই ব্যাকফুটে রাজ্যের শাসকদল। একের পর এক দাপুটে নেতা-মন্ত্রীর দলত্যাগের ধাক্কা সামলে আগামী বিধানসভা ভোটে ঘাসফুল শিবির কতটা ভালো ফল করে এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।