বন সহায়ক নিয়োগ ইস্যুতে মমতাকে পালটা আক্রমণ রাজীবের  

214

উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বন সহায়ক নিয়োগ ইস্যুতে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার আলিপুরদুয়ারের কর্মীসভায় সদ্য বিজেপিতে যাওয়া রাজ্যের প্রাক্তন বনমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে নাম না করে আক্রমণ শানান তিনি। বনসহায়ক নিয়োগে কারসাজির অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।

যদিও মুখ্যমন্ত্রীকে পালটা দিতে বেশি দেরি করেননি রাজীব। হুগলির গুড়াপের সভায় আগাগোড়াই তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি। মমতার বন সহায়ক নিয়োগে কারসাজি অভিযোগের জবাবে রাজীব বলেন, ’বন সহায়ক পদে নিয়োগের জন্য কারা কারা সুপারিশ করেছেন, কোন কোন জায়গা থেকে সুপারিশ এসেছে, কোন কোন নেতা-মন্ত্রী সুপারিশ করেছেন, সেসব তথ্য আমার কাছে রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতির সুপারিশ পত্রও আছে। আমি স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছি। স্বচ্ছতার সঙ্গেই নিয়োগ চেয়েছিলাম। কিন্তু অনেকেই তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের কাজের সুপারিশ করতেন। আমার কাছে সব তথ্যই আছে।’

- Advertisement -

মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তাঁর চ্যালেঞ্জ, ‘যদি মনে হয় নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করুন। আমিও চাই বন সহায়ক নিয়োগ নিয়ে তদন্ত হোক। কিন্তু তদন্ত হলে সামলাতে পারবেন তো?’ তৃণমূল সুপ্রিমোর উদ্দেশ্যে রাজীবের প্রশ্ন, ‘বনসহায়ক নিয়োগ হয়েছে নভেম্বরে। আর আমি ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত দলে ছিলাম। তাহলে কারসাজির কথা এতোদিন কেন বলা হয়নি? আমি কারসাজি করে থাকলে দল থেকে তাড়ালেন না কেন?’

দলত্যাগের পর থেকে ঘাসফুল শিবিরের নানা কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে রাজীবকে। উন্নয়নের স্বার্থেই যে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বন সহায়ক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রেঞ্জ ও বিট অফিসে প্রায়ই বিক্ষোভ হচ্ছে। সঠিকভাবে বন সহায়ক পদে নিয়োগ হয়নি, এমন অভিযোগ তুলে বার বার বিক্ষোভ দেখিয়েছেন আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলার বনবস্তির বাসিন্দারা। নিয়োগে কারসাজি নিয়ে আলিপুরদুয়ারের কর্মীসভায় এদিন নাম না করে প্রাক্তন বনমন্ত্রী তথা সদ্য দলত্যাগী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ দাগেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি জানান, এবিষয়ে তদন্ত চলছে।

তবে যেটা আশ্চর্যের সেটা হল, দীর্ঘদিন ধরে বন সহায়ক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ চললেও দপ্তরের মন্ত্রীর দিকে কেউই আঙুল তোলেননি। কিন্তু দপ্তরের মন্ত্রী মাত্র কয়েকদিন আগে দলবদল করে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাতেই যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী তদন্তের হুঁশিয়ারি দিলেন, তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপি-তৃণমূল তরজা তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে রাজীবকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী কার্যত বিজেপিকেই বার্তা দিলেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।