বারুইপুরের জনসভা থেকে তৃণমূলকে একযোগে তোপ রাজীব-শুভেন্দুর

118

বারুইপুর: সাম্প্রদায়িকতার চাইতেও বড় আগুন হচ্ছে প্রাদেশিকতা। আর সেই আগুন ছড়াচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল। এর জেরে শুধু রাজ্য নয় দেশজুড়ে এক ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের যোগদান মেলায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঠিক এভাবেই তৃণমূল কংগ্রেসকে দুষলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের সভায় হাজির হয়ে তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ফের সরব হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্তমান বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, তোলাবাজ ভাইপো নাকি বলেন তাঁর কথা ছাড়া ওই এলাকায় একটি ও গাছের পাতা নড়ে না। অথচ তাঁরই লোকসভা কেন্দ্রের অধীন ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার প্রাক্তন তৃনমূল বিধায়ক দীপক হালদার সহ জেলার একাধিক তৃণমূল নেতৃত্ব এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এতেই প্রমাণ হচ্ছে যে, এই জেলাতে সবচেয়ে ভালো ফল করবে বিজেপি।

এদিনের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজীবের দাবি, বারুইপুরের মাটি বিজেপির দুর্জয় ঘাঁটি। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বিরোধীদের বিরুদ্ধে যত হামলা করা হবে ততই বিজেপি জনগণের মনে বেশি করে গেঁথে যাবে। এদিনের জনসভায় যাওয়ার আগে পদ্মপুকুর মোড়ে শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে কালো পতাকা দেখান হরিহরপুর পঞ্চায়েত প্রধানের নেতৃত্বে একদল তৃণমূলকর্মী। সেই বিক্ষোভকে ব্যঙ্গ করে তিনি জানান, তাদেরকে স্বাগত জানানোর জন্য কালো বা যাই হোক পতাকা তো কেউ ধরেছেন। আর এতেই প্রমাণ হচ্ছে তাদের স্বাগত জানাতে আজ তৃণমূলকর্মীরা রাস্তায় নেমেছেন।

- Advertisement -

রাজীবের দাবি, তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা’র কথা হয়েছে, এরাজ্যে যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে তাহলে রাজ্যের উন্নয়নে কেন্দ্র একটি স্পেশাল আর্থিক প্যাকেজ দেবে। নিজের প্রাক্তন দলের প্রতি বিষোদগার করে বলেন, ‘শুধুমাত্র কেন্দ্রর বিরোধিতা করে রাজ্যকে রসাতলে পাঠিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। যার দরুন কেন্দ্রীয় প্রকল্প প্রকল্পগুলি এরাজ্যে বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি।’

উল্লেখ্য এদিন বারুইপুরের বিজেপির জনসভাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে বিভিন্ন এলাকা। বিজেপির তরফে অভিযোগ, সভা উপলক্ষে তারা যে পোস্টার, ব্যানার ও দলীয় পতাকা দিয়ে আশপাশের এলাকাকে সাজিয়েছিলেন তৃণমূলের তরফে তা ছিঁড়ে ও খুলে ফেলা হয়। যদিও তৃণমূল অভিযোগ অস্বীকার করেছে৷

এদিন সভা শেষে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লিতে বসেছে দলের নির্বাচনী কমিটির একটি বৈঠক। সেই বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীকে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা৷ শুভেন্দুর সঙ্গে মুকুল রায় ও দিল্লির বিমান ধরেন।

অপরদিকে এদিনের ওই জনসভায় শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘দলবদলু, গদ্দার ও বিশ্বাসঘাতক ওঁরা। তাই ওঁদের বিরুদ্ধে কোনও বক্তব্য দিয়ে তাঁদের প্রাধান্য দিতে চান না।’ তাঁর মতে, সদ্য বিজেপিতে গেছে ওঁরা। তাই বড় বড় কথা বলছেন। ওঁদের ক্ষমতা নেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর নাম তুলে অভিযোগ করার। তাই ভাইপো ভাইপো বলছে।