আবর্জনার স্তূপে হারিয়ে গিয়েছে রাজপ্রহরী ঝোরা

76

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : শালবাড়িহাটের পাশ দিয়ে রাজপ্রহরী ঝোরা বয়ে গিয়েছে। ওই ঝোরার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে স্থানীয় অনেকেই এখন আবর্জনা ফেলেন ঝোরায়। সম্প্রতি এক মহিলাকে আবর্জনা ফেলতেও দেখা গিয়েছে। কেন জলে আবর্জনা ফেললেন, প্রশ্ন করতেই ওই মহিলার সাফাই, এটা তো নালা। আবর্জনা তো ফেলবই। নালা নয়, ঝোরা বলে জানাতে কিছুটা অবাকই হলেন ওই মহিলা। মহিলার পর কথা হল একদল যুবকের। তাঁদের কাছে ঝোরাটির নামের ব্যাপারে প্রশ্ন করতেই হাসির রোল উঠল। ওই মহিলার মতো তাঁদেরও যুক্তি, নালার আবার নামকরণ কী হবে?

সুকনা জঙ্গল দিয়ে বেরিয়ে শালবাড়ি হয়ে মাটিগাড়ায় গিয়েছে রাজপ্রহরী ঝোরা। একশ্রেণির মানুষের অবজ্ঞা এবং আরেক শ্রেণির মানুষের কষ্টের সংমিশ্রণে বর্তমানে এই ঝোরার গতিপথ ধরে রয়েছে হতাশার গল্প। দুর্গন্ধময় আবর্জনায় ভরা এই ঝোরাটির আলাদা পরিচিতি ছিল একসময়। বিশেষ করে বর্ষার মরশুমে অনেকেই ঝোরায় মাছ ধরতে ছুটতেন। সময়ে সঙ্গে অবশ্য ঝোরার ব্যবহার পালটে গিয়েছে, কমেছে গুরুত্বও। খোঁজখবর করে জানা গেল, বহু বছর পুরানো শালবাড়িহাটকে কেন্দ্র করেই এই ঝোরাটির নামকরণ। যদিও এই শালবাড়ি হাটের ব্যবসায়ীদের একাংশও ঝোরাটির বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী অজিত গুরুংয়ের বক্তব্য, মাঝেমধ্যে আবর্জনা বেশি জমে যায়। আমাদের মধ্যে অনেকে ঝোরায় বাজারের আবর্জনা ফেলে দেন। তবে তাই বলে ঝোরাটি নষ্ট হোক, সেটা আমরা কেউই চাই না।

- Advertisement -

আবর্জনা ফেলা হলেও পরিষ্কার করার ব্যাপারে কারও উদ্যোগ নেই। ঝোরার গতিপথ বুজে আটকে থাকা আবর্জনার স্তূপ সে কথাই বলছে। গতিপথজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় অবাধে চলছে দখলদারিও। শালবাড়িহাট থেকে কিছুটা এগোলেই দখলদারির একটি ছবি সামনে আসবে। দখলদারির জেরে গতিপথের এক পাশের অংশ চেপে গিয়েছে।

বছর দশেক আগেও ঝোরাটির পরিস্থিতি অবশ্য এমনটা ছিল না, বলছেন বছর ষাটের পরিতোষ বর্মন। হতাশার সুরে তিনি বলেন, সারাবছর ধরেই ঝোরায় জলের দেখা মিলত। বর্ষার সময়ে বাইরে থেকেও লোকজন ঝোরায় মাছ ধরতে আসতেন।  এলাকার আরেক বাসিন্দা  অশোক  থাপা বলেন, আবর্জনা ফেলতে ফেলতে ঝোরার জলটাই এখন কালো, দুর্গন্ধ হয়ে গিয়েছে। ঝোরাটি বাঁচানোর ব্যাপারে প্রশাসনের তরফেও কোনও উদ্যোগ নজরে পড়ল না। হিমালয়ান নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের কোঅর্ডিনেটর অনিমেষ বসু বলেন, পরিবেশের বাস্তুতন্ত্র বাঁচানোর ব্যাপারে ঝোরাগুলোর বিশেষ অবদান রয়েছে। দুর্ভাগ্য এটাই, ঝোরাকে আমরা ডাম্পিং গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করছি। এর মধ্যে দখলদারির প্রক্রিয়া তো চলছেই। আসলে ঝোরার বিষয়টাই এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের বিদায়ী সভাধিপতি তাপস সরকার বলেন, এরকমটা হওয়া উচিত নয়। আমি পঞ্চায়েতকে বলব ঝোরাটি যাতে দ্রুত পরিষ্কার করা হয়। মাটিগাড়ার বিডিও শ্রীবাস বিশ্বাস বলেন, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঝোরাটি রক্ষার ব্যাপারে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।