ধর্না কর্মসূচীতে যোগ দিতে এসে গ্রেপ্তার হলেন রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় 

489

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করল রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। বুধবার বিজেপির ধর্না মঞ্চে যোগ দিতে তিনি রায়গঞ্জে আসেন। তার কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই ধর্না মঞ্চ খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। নির্দেশ মেনে বিজেপি কর্মীরা সেই মঞ্চ খোলার কাজ শুরু করেন। রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে ধর্না মঞ্চে যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখতেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাকে টেনে হিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তোলে। এরই প্রতিবাদে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়।

পুলিশের দাবি,সামাজিক বিধি মানা হচ্ছে না। যদিও বিজেপি কর্মীরা জানায়, লকডাউনের নির্দেশ মেনেই তারা ধর্না কর্মসূচী করছেন। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার থেকে রায়গঞ্জে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়কে পরিকল্পনা করে খুন ও নাবালিকা ছাত্রীর রহস্য মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ধর্না কর্মসূচী নেওয়া হয়।

- Advertisement -

আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই কর্মসূচী চলার কথা ছিল।আজ ধর্ণা কর্মসূচীতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল দলের রাজ্য সহ-সভাপতি রাজু  বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই মতো দুপুর ২ টায় রায়গঞ্জে চলে আসেন রাজুবাবু। তিনি ধর্না মঞ্চে যোগ দিতেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, বাসুদেব সরকার ও গৌতম বিশ্বাস সহ আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ রায়গঞ্জ থানায় নিয়ে যায়।

বিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এক ঘন্টার মধ্যে জেলাজুড়ে পথ অবরোধ করার ডাক দেন বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজিত লাহিড়ী। তিনি বলেন, আমাদের নের্তৃত্বকে যতক্ষণ না পর্যন্ত ছাড়া হচ্ছে অবরোধ চলবে। যদিও জেলা সভাপতি রায়গঞ্জে ছিলেন না। দায়িত্বে ছিলেন জেলা সহ সভাপতি নিমাই কবিরাজ। তার দাবি, পুলিশ তাঁদের কার্যক্রম তুলে দিয়েছে। পুলিশের নির্দেশে তাঁরা ধর্না মঞ্চ খুলে ফেলেছেন।

বুধবার বেলা দু’টা নাগাদ রায়গঞ্জের বিজেপির সদর দপ্তরে এসে পৌঁছান রাজু  বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের উপস্থিতিতেই ধর্না মঞ্চের সামনে বক্তব্য রাখতে যান তিনি। পুলিশ তাঁকে বাধা দিলে তা উপেক্ষা করেই সভা করতে এগিয়ে যান তিনি। এরপরেই রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্য নেতাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

চোপড়ায় মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ছাত্রীর রহস্য মৃত্যু ও হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্র নাথ রায়ের রহস্য মৃত্যুর প্রতিবাদ ও ঘটনার সাথে যুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে ধর্না ও অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে বিজেপি। বিভিন্ন মন্ডল এবং জেলা কমিটির নেতৃত্ব এই কর্মসূচীতে যোগ দেন।

তিনদিনের এই ধর্ণা ও অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রথম দিন নির্বিঘ্নে শেষ হলেও পুলিশ গিয়ে ধর্না তুলে দেয়। পুলিশের নির্দেশ মতো ধর্ণা মঞ্চ খুলে দেয় কর্মীরা। তারা সেখানে প্রতিবাদ না করলেও বিজেপির নেতা কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

রাজু  বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ করেন, পুলিশ পুরোপুরিভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দেশে চলছে। অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের জন্য একরকম আইন, বিজেপি নেতৃত্বের জন্য অন্য রকম আইন চালু করেছে পুলিশ। দলের জেলা পর্যবেক্ষক বাসুদেব সরকার  বলেন, আমরা ন্যায় বিচারের দাবিতে ধর্ণা ও অবস্থান করছিলাম।

সঠিক কী কারণে পুলিশ  এদিন বিজেপির ধর্না মঞ্চ তুলে দিল তা জানা নেই। রায়গঞ্জ শহরে আগামী ২৬ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন চলবে। শহরে দোকান পাট বন্ধ, যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। যে কোনও ধরনের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। লকডাউনের মধ্যে শহরে মঞ্চ বেধে বিক্ষোভ দেখানোয় পুলিশ আজ ধর্ণা মঞ্চ তুলে দিয়েছে বলে দাবি বিরোধীদের। রায়গঞ্জ থানার আইসি সুরজ থাপার এ ব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।