তৃণমূলকে মুঘলদের সঙ্গে তুলনা রাজু বিস্টের

0
208
- Advertisement -

ফাঁসিদেওয়া: মুঘলরা একসময় ভারতীয়দের লুট করেছে, এখন রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার বাংলার মানুষকে লুট করেছে। রবিবার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগরে এসে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ট একথা বলেছেন। এদিন ফাঁসিদেওয়া পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি তথা বিজেপি নেতা প্রণবেশ মন্ডল এবার ১৪ তম বর্ষে নিজের বাড়ি থেকে ১ হাজার গরীব মহিলাকে দুর্গাপুজোর উপহার বিতরণের অনুষ্ঠান করেন। সেখানে প্রণবেশ মন্ডল এবং রাজু বিস্ট ছাড়াও গণেশ দেবনাথ, সবিতা আগরওয়াল, অরুণ মন্ডল সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংসদ একথা বলেছেন। এদিকে, ওই অনুষ্ঠান বন্ধ করার জন্য বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ উদ্যোক্তাদের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। যদিও, পরে সেই অনুষ্ঠান সুষ্ঠভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিলম্বে পৌঁছে রাজু বিস্টা এদিন শাড়ি প্রাপকদের প্রত্যেককে একটি করে দেওয়াল ঘড়ি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

রাজু বিস্টের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকার কৃষক এবং শ্রমিকদের নিয়ে কোনও কাজ করেনি৷ রক্ষণাবেক্ষণ এবং নির্মাণ কাজ থমকে থাকায় একাধিক রাজ্য সড়ক বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে। বিধাননগরে আনারস চাষীদের জন্য ১৮ কোটি টাকা খরচে তৈরি করা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এখনও চালু হয়নি। পরে, আরও ৪ কোটি টাকা ব্যায় করে কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু, আনারসের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় কৃষকদের কোনও লাভ হয়নি।

তিনি আরও জানান, র‍্যাশনে গরীব মানুষকে নিম্ন মানের সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। অনেকে আবার সেটাও পাচ্ছেন না। গরীব মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা লুটে নিচ্ছেন। রাজ্য পুলিশকে চাপে রাখা হচ্ছে। পুলিশ কর্মীদের তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যাডারে পরিণত করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সেই কারণে, রাজ্যে বিরোধী দলকে কোনও কর্মসূচি করতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ কর্মীরা নিজেদের শপথ ভুলে গিয়েছেন। গরীব মানুষকে মিথ্যে কেস দিয়ে ফাঁসানো হচ্ছে। পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশ্যে বিস্ট বলেন, আপনারা ভুল এবং মহা পাপ করছেন। আপনাদের নামের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ২০২১ সালে রাজ্যে বিজেপি সরকার তৈরি হবে। এরপর আপনাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দার্জিলিংয়ের সাংসদ বলেন, আয়ুস্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় গোটা দেশের গরীব মানুষ সরকারিভাবে ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসা বিনেপয়সায় পাচ্ছেন। কিন্তু, রাজ্য সরকার এখনও পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্ক চালু করতে দেয়নি। ফলে, রাজ্যের মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না। বহু গরীব মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন। কিন্তু, রাজ্য সরকার মানুষের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও, এখন তাঁদের কোনও ভূমিকাই নেই। রাজ্যে শাসকদল এখন চোর হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রের পাঠানো টাকায় তৃণমূল কংগ্রেস দল চালাচ্ছে। নেতাদের পকেট ভরছে, গরীব মানুষ সর্বশান্ত হচ্ছেন।

রাজু বিস্ট বলেন, আর কয়েক মাস পর থেকেই চা বাগান শ্রমিকদের নূন্যতম দৈনিক মুজুরি ১৭৬ টাকার বদলে ৩০০ টাকা করে দেওয়া হবে। শ্রমিকদের জন্য ইএসআই হাসপাতাল তৈরি করা হবে। বোনাস এবং গ্র্যাচুয়েটির টাকাও দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন কৃষি আইন নিয়ে রাজু বিস্ট বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার ৭২ বছর পর কৃষকরা এবারে স্বাধীনতা পেলেন। এখন থেকে কৃষকরা নিজেদের ফসল ইচ্ছেমতো বিক্রি করতে পারবেন। ২০২১ সালে কেন্দ্রে ও রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে সিপিএম ৩৪ বছর এবং তৃণমূল কংগ্রেস গত ১০ বছরে পশ্চিমবঙ্গে যে উন্নয়ন করতে পারেনি, বিজেপি ৫ বছরে তা করে দেখাবে বলে তিনি দাবি করেন।

- Advertisement -