নদী ভাঙন রুখতে রাখি, অভিনব উৎসবে বৃক্ষ রোপনের বার্তা

322

ফাঁসিদেওয়া, ৩ অগাস্টঃ একদিকে করোনা আবহ, তার মধ্যেই রাখি বন্ধন উৎসব। দূর-দূরান্তে গিয়ে ভাই কিংবা দাদাদের রাখি পরিয়ে এবারে উৎসব পালন করা সম্ভব নয়। তাই, বিধাননগরের বোনেরা অভিনব উদ্যোগ নিলেন। বর্ষায় নদী ভাঙন রুখতে ঘোষপুকুর ফরেষ্ট ডিভিশন ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগরে মহানন্দা নদীর পারে গাছ লাগিয়েছিল। সেই সমস্ত গাছের দীর্ঘায়ু কামনা করে বিধাননগরের মেয়েরা এবছর গাছকেই রাখি পরালেন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই স্নান করে সকল নিয়মাদি পালন করে শাক বাজিয়ে, উলু দিয়ে গাছকে রাখি পরানো হয়। পাশাপাশি, নতুন বিধাননগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০০ টি গাছ লাগানো হয়েছে। মূলত সবুজ বাঁচাতে এবং নদী ভাঙন রুখতে মেয়েরা এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সমাজের বিশিষ্টরা এই প্রচেষ্টাকে অভিনব তকমা দিয়ে সাধুবাদও জানিয়েছেন।

ভাই-দাদাদের দীর্ঘায়ু কামনা করে প্রতি বছর বোন-দিদিরা রাখি পরিয়ে থাকেন। কিন্তু, যে গাছ সমাজকুলকে নানাভাবে উপকৃত করে, এমনকি জীবজগৎ বেঁচে থাকার অন্যতম উপাদান অক্সিজেন সরবারহ করে। সেই বৃক্ষচ্ছেদন সমাজকে ভয়াবহ সংকটের মুখে ফেলতে পারে। সেই কথা মাথায় রেখেই এবং বৃক্ষ রোপণ এবং সবুজ বাঁচিয়ে রাখার বার্তা এবারে বিধাননগরে বোনেদের কাছে মুখ্য হয়ে উঠেছিল। এই অভিনব কায়দায় রাখি উৎসবের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার বার্তা, পরিবেশেপ্রমীদের মধ্যে যেন আলাদা আমেজ এনে দিয়েছে। পরিবেশেপ্রমীদের একাংশের দাবি, এই প্রচেষ্টায় শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ করে ছেড়ে দিলে হবে না, সেই বার্তায় মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। এছাড়া, প্রতি বর্ষায় নদী ভাঙনে ওই এলাকার মানুষের ব্যপক ক্ষতিসাধন হয়। এই অভিনব প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলে, নদীর ভাঙন কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব হবে বলে বিশিষ্ট পরিবেশপ্রেমীরা মনে করছেন।

- Advertisement -

শিউলি দাস জানিয়েছেন, মহানন্দা নদীর পাড়ে বন দপ্তরের লাগানো গাছে তাঁরা রাখি পড়িয়েছেন। একইসঙ্গে প্রায় ১০০টি নতুন বৃক্ষ রোপন করা হয়েছে। এলাকার প্রায় কয়েকশো বৃক্ষকে দত্তক নিয়ে, সেগুলো দেখভালও তাঁরা করবেন বলে তিনি জানান। ফলে, সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তনিমা ঘোষ জানান, বিশ্ব উষ্ণতা রুখতে সবুজায়নের দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কর্মসূচি দিয়ে তাঁরা সেই বার্তাও মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে, ভাই-দাদারা যেভাবে বোন-দিদিদের পাশে থাকে, বৃক্ষ গোটা জীবকুলের পাশে থাকে। তাই, গাছের দীর্ঘায়ু কামনা করে তাঁরা রাখি পরালেন। নন্দিতা দাস বলেন, সবুজায়নের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল তৈরি করার এই উদ্যোগে সামিল হতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। বিধাননগরের বিশিষ্ট সমাজসেবী বাপন দাস জানিয়েছেন, বিধাননগরের মেয়েদের এই প্রচেষ্টা মানুষকে আরও সচেতন হতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, ফাঁসিদেওয়া বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার জানিয়েছেন, এধরনের উদ্যোগ অধিক মাত্রায় করা উচিত।