ভগতপাড়ায় আদিবাসীদের মিছিল, ছুঁটে গেলেন তৃণমূল নেতারা

591

বীরপাড়া, ২৭ নভেম্বরঃ তাঁদের দাবি তাঁরা হিন্দু নন। অথচ তাঁদের জনগণনা থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে হিন্দু হিসেবে ধরা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এতে তাঁদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পথে বলে অভিযোগ ডুয়ার্সের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সারনা ধর্মাবলম্বীদের। সেই কারণে সারনা কোড চালুর দাবিতে ২২ নভেম্বর কুমারগ্রাম থেকে এলেনবাড়ি পর্যন্ত পদযাত্রা শুরু করেছেন তাঁরা।

রাজী পারহা সারনা প্রার্থনা সভা (ভারত), ডুয়ার্স তরাই সারনা যুব সমিতি ও আদিবাসী ছাত্র সংঘ নামে তিনটি সংগঠন এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পদযাত্রাটি বীরপাড়ার ভগতপাড়ায় পৌঁছায়। সেখানেই তাঁরা রাত কাটান। রাজী পারহা সারনা প্রার্থনা সভার সাধারণ সম্পাদক ভগবানদাস মুন্ডা, ডুয়ার্স তরাই সারনা যুব সমিতির সভাপতি বিলাস ওরাওঁ, সম্পাদক সুশীল ওরাওঁ, আদিবাসী ছাত্র সংঘের সভাপতি অভিষেক মিনজ, উত্তরবঙ্গের ধর্মগুরু জগন্নাথ ওরাওঁ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

- Advertisement -

এদিকে, আদিবাসীদের সারনা ধর্মাবলম্বীদের ওই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস পাশে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ভগতপাড়ায় পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের দেখা করতে যান তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা কমিটির সম্পাদক রশিদুল আলম, মাাদারিহাটের ব্লক সভাপতি সঞ্জয় লামা, সহসভাপতি দ্বীপনারায়ণ সিনহা সহ অঞ্চল সভাপতিরা।

রশিদুল আলম বলেন, আদিবাসীরা তাঁদের স্বতন্ত্রের জন্য পথে নেমেছেন। আমরা তাঁদের সাথে আছি। সুশীল ওরাওঁ বলেন, ১৮৭১ সাল থেকে সারনা ধর্ম স্বীকৃত ছিল। ব্রিটিশরাও আমাদের ধর্মকে অস্বীকার করেনি। কিন্তু, ১৯৫১ সাল থেকে সরকারি ক্ষেত্রে এই ধর্মের স্বীকৃতি বাদ দেওয়া হয়। বিভিন্ন আবেদনপত্রে ধর্মের কলাম পূরণে অন্যান্য ধর্মের জায়গা থাকলেও, সারনা ধর্মের জায়গা নেই। তাই কেন্দ্রীয় সরকারকে সারনা কোড চালুর দাবি জানিয়ে আমরা পথে নেমেছি।

এদিকে, এদিন ভগতপাড়ায় পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের দেখা করতে তৃণমূল নেতাদের ছুঁটে যাওয়াকে কটাক্ষ করেছেন মাদারিহাটের বিধায়ক তথা বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য মনোজ টিগ্গা। তিনি বলেন, এতদিন তৃণমূলের নেতারা কোথায় ছিলেন? রাজনৈতিক স্বার্থেই ছুঁটে গিয়েছেন তাঁরা। তবে, এতে লাভ হবে না। তৃণমূল আদিবাসীদের শুধুমাত্র ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করেছে। আদিবাসী সম্প্রদায় তা বুঝে গিয়েছে। তৃণমূল সারনা কোড সমর্থন করলে রাজ্য সরকার বিল আনুক।

ভগবানদাস মুন্ডা বলেন, আমরা প্রকৃতির পুজো করি। আমাদের ভিন্ন ধর্মমত রয়েছে। আমরা তাঁর স্বীকৃতি চাই। এটা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।