সরকারি সুযোগের আড়ালে রুপাহারে রমরমা দালাল চক্র

886

রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ ব্লকের ১১ নং বিরঘই অঞ্চলের রুপাহারের বিভিন্ন গ্রামে মহিলা বিড়ি শ্রমিকদের লেবার কার্ড ও বিভিন্ন সরকারি সুযোগ সুবিধা দেওয়ার নাম করে টাকা তুলছে শাসকদলের একাংশ বলে অভিযোগ। আবার অনেকে ২০ থেকে ২৫ বছর আগে লেবার কার্ড তৈরি করলেও মিলছে না কোনো সরকারি সুযোগ সুবিধা। অথচ কোনো সময় সরকারি আবাস, আবার কোনো সময় লোন সহ বিভিন্ন টোপ দিয়ে তাদের কাছ থেকে মাঝে মধ্যে টাকা নিয়ে যায় অনেকেই বলে অভিযোগ। ভোটের সময়, নেতা-নেত্রীরা রায়গঞ্জে আসলে মিটিং মিছিলের জন্য তাদের ডাক পড়ে। অথচ তাদের দু:খ যন্ত্রণা যা ছিল তাই আছে বলে আক্ষেপ মহিলা বিড়ি শ্রমিকদের। তাদের অভিযোগ, যাদের কার্ড নেই তাদের কার্ড তৈরি করে দেওয়ার জন্য কখনও ৩০০, আবার কখনও ৫০০ টাকা নিয়ে গিয়েছেন নেতারা। এরপর থেকে কার্ডও নেই, তাদের দেখাও মিলছে না।

রুপাহার ও উত্তর রুপাহারের তেতুলতলা, বাগানবাড়ি, কলোনী এলাকার প্রায় ২০০ মহিলা বিড়ি বেধে সংসার চালায়। প্রতিদিন হাজার বিড়ি বাধলে তাদের জোটে ১০০ টাকা। লকডাউনের জন্য প্রায় তিন থেকে চার মাস তাদের সেভাবে কাজ ছিল না। পুজোর অনেক আগেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। দু-একদিন হল কাজ শুরু হলেও সেভাবে মালিকদের বরাত নেই। তাই নাম মাত্র কাজ শুরু হয়েছে।

- Advertisement -

বুলি রায় নামে এক মহিলা বিড়ি শ্রমিক বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর ধরে বিড়ি বাধছি। আমার কার্ড আছে। কিন্ত কোনো সরকারি সুযোগ সুবিধা পাইনা। অথচ ভোটের সময় অনেক কিছুই বলা হয়। আমাদের মিটিং মিছিলে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, মাঝে মধ্যে সুযোগ সুবিধা দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত কোনো কিছুই পাইনি।’

সুমিত্রাদেবী রায় নামে আরও একজন বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর ধরে বিড়ি বাধছি। অথচ কিছুই পাইনি। নেতারা এসে আমাদের সঙ্গে মিটিং করে টাকা নিয়ে যায়, এরপর কিছুই মেলে না।’

বুলবুলি রায় নামে এক মহিলা বিড়ি শ্রমিক জানান, ‘কার্ড করে দেওয়ার নামে প্রথমে ৩০০ টাকা, পরে আবার ৫০০ টাকা নিয়ে গেছে দালাল চক্রের লোকেরা। কিন্ত এখনও কার্ড পাইনি। টাকা না দিলে কোনো কিছুই পাবো না বলেই তাই টাকা দিয়েছি।’

পার্বতী রায় নামে আরও একজন বলেন, ‘ঘর দেওয়ার নাম করে প্রথমে ৫০০, পরে ৩৫০ টাকা নিয়ে গেছেন বিড়ি শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলন করেন এমন নেতারা।বাড়ির জায়গা আমার নামে রেজিস্টি করে নিতে হবে বলে তারা জানালে আমি অস্বীকার করি।এরপর থেকে তাদের আর দেখা মিলছে না।’

তেতুলতলার মহিলা বিড়ি শ্রমিক রীতা নন্দী, খুকি রায় সহ প্রত্যেকের দাবি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বিড়ি বাধলেও কোনো সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না। ভোটের সময় শুধু প্রতিশ্রুতি মিলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরিকালচার বিভাগের স্নাতকোত্তর বিভাগের ছাত্র প্রদীপ সরকার জানান, এলাকার প্রতিটি বাড়ির মহিলারা বিড়ি বাধার কাজ করেন। কিন্ত তাঁরা কোনো সরকারি সুযোগ সুবিধা পান না। মাঝে মধ্যে তাদের থেকে টাকা নিয়ে গেলেও কোনো কাজ তাঁরা করেন না।

যদিও রায়গঞ্জ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি বিড়ি শ্রমিকদের এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘প্রত্যেকে সরকারি সুযোগ সুবিধা পেয়েছে। আমাদের দলের কেউ কোনো টাকা নেয়নি। বামফ্রন্ট সরকার আমলে তাদের কার্ড তৈরি করে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় কেউ কোনো সুযোগ সুবিধা পাইনি। বর্তমানে ওই পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে তাঁরাই ঘর দেওয়ার নাম করে টাকা তুলছে।’

যদিও বিরঘই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির উপপ্রধান নীলেশ্বর বর্মণ বলেন, ‘তৃণমূল মিথ্যা অভিযোগ করছে আমাদের দলের বিরুদ্ধে। আমাদের কেউই ঘর দেওয়ার নাম করে কারও থেকে টাকা নেয়নি।’