কুলিক বনাঞ্চলের সংরক্ষিত এলাকায় রমরমা মদের আসর

138

রায়গঞ্জ: কুলিক বনাঞ্চলের সংরক্ষিত এলাকায় প্রকাশ্যে অবাধে রমরমিয়ে চলছে মদের আসর। বিদেশি মদের সহযোগে চলছে রকমারি খানাপিনা। এহেন বেআইনি কাজে সামিল সরকারি দপ্তরের একাংশ কর্মীও।

এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ কুলিক পাখিরালয়ের পাশেই রায়গঞ্জের কুলিক বনাঞ্চলের মনিপাড়া সংরক্ষিত এলাকা। শীতের আমেজে ফুরফুরে হতে সারি সারি গাছের আড়ালে মদের ফুয়ারা যেন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তারক্ষীদের নিষেধাজ্ঞাকে কার্যত ফুৎকারে উড়িয়ে মদের আসরে কর্তব্যরত সরকারি কর্মীদের ছবিও ধরা পড়েছে। কারণ জানতে চাইলে রঙিন মদ ভর্তি প্লাস্টিকের গ্লাস হাতে নিয়ে সরকারি খাতা কলম দেখিয়ে কর্তব্যরত এক সরকারি কর্মী প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি বাংলার গর্বের সরকারি কাজ করছি, স্বাস্থ্য সাথীর কাজ পালন করছি। তাই একটু এখানে এসেছি।’

- Advertisement -

অথচ সেখানেই বনের রক্ষী একাধিকবার মানা করা সত্ত্বেও কাজের কাজ হয়নি। আর খানাপিনা শেষে মদের খালি কাঁচের বোতল বন জুড়ে ছিটিয়ে চলে যায় ফূর্তি করতে আসা পর্যটকরা। কুলিক বনের কর্তব্যরত রক্ষীদের কথায়, ‘পুলিশ গতকালই একজনকে তুলে নিয়ে গেছে,কিন্তু আমাদের মানে না। এসব পুলিশ ছাড়া সম্ভব নয়।’

রায়গঞ্জ বনদপ্তরের রক্ষী অকিমচন্দ্র দাস বলেন, ‘তিন বছর ধরে এখানে পিকনিক মদ খাওয়া নিষিদ্ধ। বারংবার বললেও তারা কথা শোনে না। আমরা আর কি করতে পারি? রাতেও এখানে মদ খাওয়া হয়। অসামাজিক কাজকর্মও চলে। পুলিশ আসলে বন্ধ থাকে টহল না দিলে আবার শুরু হয় মদ খাওয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য কাজ। যারা এখানে আসে তাদের মধ্যে অধিকাংশই দুষ্কৃতী বা প্রভাবশালী আমাদের কথা কি আর মানবে। দরকার পুলিশি পাহারা ও টহল।’

উত্তরদিনাজপুর নাগরিক কমিটির সম্পাদক তপন চৌধুরী বলেন, ‘সংরক্ষিত বনাঞ্চলে এই ধরনের কাজ নিত্যদিনের। শুধু মদের বোতলই নয় সমস্ত বনে ঘুরলে চাট, প্লাস্টিকের গ্লাস সবই পাওয়া যাবে। কুলিক ফরেস্টের ভেতরে পরিবারকে নিয়ে যাওয়া যায় না। সেখানেও বাজে বাজে দৃশ্য দেখতে হয়। অভিভাবকেরা সন্তানদের ভিতরে ঘুরতে নিয়ে যান না। কুলিক ফরেস্টের ভেতরে সিসি ক্যামেরা রয়েছে সেই ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখলেই দেখা যাবে উড়তি যুবক যুবতীদের ছবি। শুধু তাই নয় কিশোর-কিশোরীরাও সেখানে ভিড় করছেন।’ যদিও এই প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ বন আধিকারিক সোমনাথ সরকারকে বারংবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি।