প্রয়াত বালুরঘাটের জনপ্রিয় চিকিৎসক রামেন্দুনারায়ণ ঘোষ

955

সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: করোনা যোদ্ধা হিসেবে এই অতিমারীর সময়েও কাজ করে গিয়েছেন, নিজে সংক্রামিত হওয়ার পর করোনাকে জয়ও করেছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। ফুসফুসের সংক্রমণে মারা গেলেন বালুরঘাটের বিশিষ্ট দন্ত চিকিৎসক তথা সমাজকর্মী ডাঃ রামেন্দুনারায়ণ ঘোষ। বালুরঘাট হাসপাতালের এই করোনা যোদ্ধার মৃত্যুতে চিকিৎসক মহল তো বটেই বালুরঘাটজুড়ে শোকের ছায়া। সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, বাম বিধায়ক বিশ্বনাথ চৌধুরি সহ আরএসপি, সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি সমস্ত রাজনৈতিক নেতারা শোকজ্ঞাপন করেন। এছাড়া বালুরঘাটের সাধারণ মানুষও শোকজ্ঞাপন করেন।

চিকিৎসক হিসেবে যথেষ্ট খ্যাতি ছিল রামেন্দু ঘোষের। মৃত্যুকালে রামেন্দুবাবুর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। নভেম্বর মাসের ১ তারিখে করোনা সংক্রামিত হয়ে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৪ দিন পরে করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও, ফুসফুসের অতি সংক্রমণের কারণে শনিবার বিকালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। শনিবার গভীর রাতে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। রবিবার দুপুরেই কলকাতা থেকে মরদেহ নিয়ে রওনা দিয়েছেন তাঁর পরিবারের লোকেরা। মৃত্যুকালে তিনি দুই পুত্র ও স্ত্রীকে রেখে গেলেন।

- Advertisement -

চিকিৎসার পাশাপাশি জেলাজুড়ে নানা সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। প্রয়াস আত্রেয়ী নামে জেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। এছাড়াও ১৯২৮ ক্লাব, সকাল, বালুরঘাট ট্রেকার্স ইউনিট সহ একাধিক সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্র ছিলেন। গোপালগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন তিনি। কলকাতা আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজে পড়াকালীন সমাজসেবামূলক কাজে জড়িয়ে পড়েন।

একবার মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর দাঁতের চিকিৎসা করে তাঁকে সুস্থ করেন তিনি। প্রবীণ এই চিকিৎসকের উত্তরবঙ্গজুড়েই সুনাম রয়েছে। ক্যাম্প করে দাঁতের চিকিৎসায় জেলায় অন্যতম পথিকৃৎ তিনি। বঙ্গরত্ন অমূল্যরতন বিশ্বাস জানান, করোনায় জেলার একজন ভদ্র, শিল্পী ও সমাজসেবীকে হারালাম আমরা। কংগ্রেস নেতা স্বপন বিশ্বাস, বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, বাম বিধায়ক বিশ্বনাথ চৌধুরি সহ বিশিষ্টরা এদিন শোকজ্ঞাপন করেন।