আইপিএলকে কেন্দ্র করে রমরমা জুয়ার আসর

469

শিবশঙ্কর সূত্রধর, কোচবিহার: একদিকে চলছে আইপিএল, আরেকদিকে দোরগোড়ায় কালীপুজো। এই পরিস্থিতিতে জুয়া রোখাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে পুলিশের কাছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রচুর পরিমাণে সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বেশ কযেজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কালীপুজোর বেশকয়েকদিন আগে থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় জুয়ার ঠেক বসে। পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কিছু হোটেলেও জুয়ার আসর বসানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

পাশাপাশি বর্তমান সময়ে আইপিএল চলায় সেখানেও প্রচুর টাকার জুয়া হচ্ছে। পুলিশের নজর এড়াতে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করেও সেই জুয়া পরিচালনা হচ্ছে। পুলিশ সুপার মহম্মদ সানা আখতার বলেন, ‘জুয়ারোধে পুলিশের বিভিন্ন ব্যবস্থা থাকছে।

- Advertisement -

ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করা হয়েছে। সাদা পোশাকের পুলিশও মোতায়েন রয়েছে। কোনো অভিযোগ পেলে শীঘ্রই পদক্ষেপ করা হবে।’
পুলিশি নজরদারি থাকলেও প্রতিবছরই রমরমিয়ে চলে জুয়ার আসর। কালীপুজোর সময় কোচবিহার জেলায় জুয়ার বাড়বাড়ন্ত নতুন কিছু নয়। গ্রাম বা শহর লাগোয়া এলাকা তো বটেই খোদ শহরের বুকেও এধরণের কারবার চলে। পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিতে বেশকিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে জুয়ার আয়োজকরা। যেখানে জুয়া চলে তার আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে তাঁদের সাগরেদরা। পুলিশ বা অন্য কোনো সন্দেহজনক কিছু দেখলেই খবর দিয়ে দেওয়া হয় জুযার ঠেকে। সেখানে সতর্ক হয়ে যান তাঁরা। জুয়ার আসরে যে কেউ সহজেই প্রবেশ করতে পারেন না। আযোজকদের বিভিন্ন এজেন্টদের মাধ্যমেই সেখানে পৌঁছে খেলায় অংশ নেওয়া হয়। পুলিশের তরফে ধরপাকড়ও করা হয় প্রতিবছর। পুলিশি নজরদারি চললেও শহরের বুকে কীভাবে জুয়ার আসর চলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জুয়ার পিছনে পুলিশের একাংশ জড়িত থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন সময়ে।

শুধু কোচবিহার শহরই নয় গ্রামাঞ্চলগুলিতেও কালীপুজোর সময় জুযার রমরমা দেওযা দেয়। তাস কিংবা ঘুটঘুটি বোর্ডের মাধ্যমে জুয়া চলে। জুয়া খেলে সর্বস্বান্ত হওযার ঘটনা কম নয়। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের কালীপুজোর রাতে কোচবিহার-১ ব্লকের পানিশালা গ্রাম পঞ্চাযেের চার নম্বর এলাকায় একটি জুয়ার ঠেকে হানা দিয়ে জুয়ারুদের আক্রমণে প্রাণ হারান পুলিশের এসআই রঞ্জিত পাল। পরবর্তীতে জুয়া রোধে পুলিশের তরফে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করা হয়েছিল। যদিও কালীপুজোর সময় জুয়া বন্ধের জন্য পুলিশ নানা উদ্যোগ নিলেও কাজের কাজ তেমন কিছুই হয়নি। প্রতি বছরই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা যায়।

ক্যাশলেস পদ্ধতি ব্যবহার করে জুয়া চলার ঘটনাও ঘটে। সেক্ষেত্রে নগদ অর্থ সাথে না রেখেই জুয়া খেলা হয়। খেলা শেষে হিসেব অনুযাযী টাকা লেনদেন করা হয়। এই পদ্ধতির জুয়ায় সাথে বেশি সংখ্যক নগদ অর্থ না রাখায় পুলিশের সন্দেহও কম থাকে। সূত্রের খবর, এধরণের নানা উপায় ব্যবহার করায় মাঝেমধ্যেই জুয়ার বিষযটি সহজেই নজরে আসে না পুলিশের। তাই সাদা পোশাকের পুলিশের উপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোচবিহারের হোটেল, ক্লাব তো বটেই এছাড়া সন্দেহজনক স্থানগুলিতেও নজরদারি চালাবেন তাঁরা। কোথাও জুয়ার আসর বসলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলা পুলিশ। তবে কাজের কাজ কতটা হবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেকেই।