চিতাবাঘের আতঙ্কে ঘুম উড়েছে রমজানপল্লীর

89

মালবাজার: সোমবার রাত প্রায় তিনটা। হঠাৎ করে পাড়ার কুকুরদের তারস্বরে চিৎকার জেগে ওঠেন সহিদুল ইসলাম। মাল শহর ঘেষা ক্ষুদিরামপল্লীর রমজান পল্লীতে তাঁর বাড়ি। সহিদুল সাহেব বাড়ির উঠোনে বের হয়ে বুঝতে পারেন গোয়াল ঘরে গোরু নেই। সামনের বাঁশের গেটও ভাঙ্গা। কুকুরের দল জড়ো হয়ে চিৎকার করছে। গেটের সামনে আসতেই আঁতকে ওঠার পালা। অদূরে একটি ঝোপের মধ্য দিয়ে ছুটে চলে গেল চিতাবাঘ। রাতের অন্ধকারে ঠিক ভাবে বোঝা না গেলেও পিছনের অংশ দেখে সহিদুল সাহেব নিশ্চিত চিতাবাঘ খাবারের সন্ধানে গোরুর গোয়ালেই হানা দিয়েছিল। রাতেই এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পড়ে জখম অবস্থায় গোরু উদ্ধার হয়েছে। বন্যপ্রাণ বিভাগ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখছে। এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য আছে।

মাল নদীর পাশে শহর ঘেষা এলাকা ক্ষুদিরাম পল্লী। ক্ষুদিরামপল্লীরই অংশ রমজান পল্লী ।ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা। এর পূর্বেও এলাকায় চিতাবাঘের হানার অভিযোগ সেভাবে ছিল না। এবার চিতাবাঘের হানা হানার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ক্ষুদিরাম পল্লী এবং মাল শহর জুড়ে আলোচনা চলছে।

- Advertisement -

প্রবীণ নাগরিক সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাতে আমরা সকলেই গভীর ঘুমে ছিলাম। কুকুরের আওয়াজেই ঘুম ভাঙ্গে। তারপর দেখি গোয়াল ঘরে গোরু নেই। পরে আমি চিতাবাঘের পিছনের অংশটিও দেখতে পাই। সম্ভবত চিতাবাঘটি গোরুটিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাই করছিল। আমরা সকলেই আতঙ্কে আছি।’

প্রতিবেশী মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘এর পূর্বেও মাল নদীর ধারে কয়েক দফায় চিতাবাঘের হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে চিতা বাঘের হামলায় বাসিন্দারা জখম হয়েছেন। ঘুমপাড়ানি গুলি ছুড়ে চিতাবাঘকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এবার আমরা নিশ্চিত আমাদের এলাকাতেও চিতাবাঘের হানার ঘটনা ঘটল। আমাদের এলাকায় সম্ভবত গবাদিপশুর লোভেই চিতাবাঘ এসেছিল। আমরা সকলেই দুশ্চিন্তাতে আছি। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেও এলাকাবাসীরা এলাকা টহল শুরু করেছে ।আমরা বনবিভাগকে সার্বিক বিষয়ে জানিয়েছি।’

গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের আওতাধীন মালবাজার স্কোয়াডের ওয়ার্ডেন দ্বীপেন সুব্বা বলেন, ‘আমরা বাসিন্দাদের কাছ থেকে এলাকাতে চিতাবাঘের হানার খবর পেয়েছি। আমরা নজরদারি রাখছি। সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোরুটিকে চিকিৎসা করাতে বলা হয়েছে।’