হাতির হানায় অতিষ্ট ছেকামারির বাসিন্দারা, ছাড়ছেন ভিটে

77

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: লাগাতার হাতির হানায় পাকাপাকিভাবে ভিটে ছাড়তে হচ্ছে আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাটের ছেকামারি একাধিক পরিবার। কেউ আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়ের বাড়িতে। তো কেউ আবার ছেড়েছেন গ্রাম। যদিও সপ্তাহান্তে একদিন অন্তত হানা দিয়ে বসছে দলছুট দাঁতাল। স্থানীয়দের অভিযোগ, উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে হাতির হানা। এই পরিস্থিতিতে অনেকই বাধ্য হচ্ছেন পাকাপাকিভাবে ভিটে ছাড়তে।

গত বছরের অগাস্ট মাসে মধ্য ছেকামারি গ্রামের বাসিন্দা কিরণবালা রায়ের বাড়িতে হানা দেয় এক দাঁতাল। বাড়ি-ঘর তছনছ করার পাশাপাশি ওই বৃদ্ধাকে পিষে মারে দাঁতালটি। ঘটনার পর কেটে গিয়েছে কয়েক মাস। হাতির হানায় অতিষ্ট হয়ে মৃতার ছেলে গ্রাম ছেড়ে ঠাঁই নিয়েছেন উত্তর রাঙ্গালিবাজনার ডাঙ্গাপাড়ায়। যদিও হাতির হানা এখনও অব্যাহত কিরণবালার বাড়িতে। একইভাবে হাতির হানায় অতিষ্ট হয়ে ভিটে ছাড়া হয়েছেন গজেন কুজুরও। প্রায় দু বছর আগে গ্রাম ছেড়েছেন তিনি। সপরিবারে ঠাঁই নিয়েছে ভাই সোনালাল কুজুরের বাড়িতে। তাঁর কথায় পরিত্যক্ত বাড়ির উঠোনে কয়েকটি সুপারি গাছ রয়েছে। এছাড়া সেভাবে কিছুই নেই। যদিও দাঁতালের হানা এখনও জারি। অন্যদিকে হাতির হানায় অতিষ্ট হয়ে শেষ অবধি রাজ্য ছাড়া হতে হল বীরপাড়া চা বাগানের বদিবাড়ি লাইনের বাসিন্দা মীনা টোপ্পোকে। বছর দুয়েক আগে তাঁর বাড়িতে হাতির হানা পড়েছিল। এরপর ভাঙা বাড়ি ফেলে দাদার বাড়িতে ঠাঁই নেন তিনি। অপেক্ষায় ছিলেন ক্ষতিপূরণের। মাসের পর বছর পেড়িয়ে গেলেও ক্ষতিপূরণের টাকা না মেলায় শেষ অবধি ভিন রাজ্যে পাড়ি দেন দিনমজুরের কাজের লক্ষ্যে।

- Advertisement -

উত্তর খয়েরবাড়ির বিট অফিসার বিধান দে বলেন, ‘হাতির হানার খবর পেলেই ছুটে যাচ্ছেন বনকর্মীরা। যাচ্ছেন স্কোয়াডের কর্মীরাও।’