রানিগঞ্জে জয়ী হয়ে তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রীত্ব পাওয়া নিয়ে জল্পনা

45

আসানসোল, ৪ মেঃ এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আসানসোল দক্ষিণ থেকে তাঁকে প্রার্থী করে পাঠিয়ে দেওয়া হল রানিগঞ্জে। গত পঞ্চাশ বছর ধরে বামেদের দখলে থাকা ও গত লোকসভা ভোটে বিজেপির থেকে পিছিয়ে থাকা রানিগঞ্জ আসনটিতে অপ্রত্যাশিতভাবে ছিনিয়ে নিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়। আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তাপস বন্দোপাধ্যায়কে সেখানে এবার আর প্রার্থী না করে, প্রার্থী করা হয় কলকাতার অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে।

তবুও, তাপসবাবু কোনও প্রতিবাদ করেননি। দল বিরোধী কোনও কাজ কিংবা মন্তব্য তিনি করেননি। খানিকটা প্রচারবিমুখ হয়েই রানিগঞ্জে দাঁতে দাঁত চেপে চুপচাপ লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন তাপস বাবু। আসানসোল পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র, আসানসোল দূর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ বা আড্ডার চেয়ারম্যান পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার কি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রীত্ব দিতে পারেন? এ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে আসানসোল রানিগঞ্জ শিল্পাঞ্চল জুড়ে।

- Advertisement -

ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর মন্ত্রীসভা গঠন করে যত দ্রুত সম্ভব কোভিড পরিস্থিতির মোকাবিলায় কাজ শুরু করে দিতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরমধ্যে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নামের তালিকা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে জোরদার আলোচনাও চলছে। সূত্রের খবর, এবার রাজ্যের মন্ত্রীসভায় দেখা যেতে পারে বেশ কিছু নতুন মুখ। দল ছেড়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব বন্দোপাধ্যায়ের মতো মন্ত্রীরা। হেরেছেন গৌতম দেবের ও। তালিকা থেকে বাদ যেতে পারেন কয়েকজন পুরোনো মন্ত্রী। আর এখানেই উঠে আসছে আসানসোল শিল্পাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম।

এবারের বিধানসভা ভোটেও জিতে জয়ের হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। যদিও, এবার তাঁকে ভোটে লড়তে হয়েছে অন্য কেন্দ্রে গিয়ে। এর আগে ২ বার আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়ে জেতার পর, এবার তাঁকে লড়তে হয় বামদূর্গ বলে পরিচিত রানিগঞ্জ কেন্দ্রে। কারণ, দল এবার আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রে সায়নী ঘোষ প্রার্থী হয়েছিলেন। সায়নী শেষ পর্যন্ত জিততে না পারলেও, তাপস বন্দোপাধ্যায় কিন্তু তাঁর জয়ের ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন নতুন কেন্দ্রে গিয়েও।

যদিও, খুব অল্প ভোটের ব্যবধানেই (৩২৯৫) বিজেপি প্রার্থী ডাঃ বিজন মুখোপাধ্যায়কে হারিয়ে বিধানসভায় যাওয়ার ছাড়পত্র পেয়েছেন তাপস বন্দোপাধ্যায়। আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের মলয় ঘটক ২ বার রাজ্য মন্ত্রীসভায় ঠাঁই পেলেও, তাপসবাবুর জায়গা না পাওয়াটা, কিন্তু আসানসোল শিল্পাঞ্চলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তাপস বাবুর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় প্রায় চার দশক আগে ছাত্র রাজনীতির সূত্রে। ৯০ এর দশকে যখন জ্যোতি বসু এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সেই সময়ে তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমবার ভোটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন। তখন তিনি ছিলেন কংগ্রেসে।

পরবর্তীতে আরও অনেকের মতোই কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে চলে যান তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আসানসোল পুরনিগমের মেয়র হয়েছেন তাপস বন্দোপাধ্যায়। আসানসোল দূর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যানও হয়েছিলেন। কিন্তু, পশ্চিম বর্ধমান জেলা থেকে তাঁকে মন্ত্রী করার কথা কেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্ব সেভাবে গুরুত্ব দিয়ে ভাবেননি, এই প্রশ্ন অনেকের মধ্যেই আছে। এর আগে বেশ কয়েকবার আলোচনা হলেও তাপসবাবুর মন্ত্রী হওয়া হয়নি।

এবার কি তবে এই ছবিটা বদলাতে চলেছে? মাত্র ৯টি বিধানসভা এই পশ্চিম বর্ধমান জেলায়। সেখানে মলয় ঘটকের পাশাপাশি, আরও একজন মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করবেন? তবে পূর্ণ মন্ত্রী না হলেও, তাপসবাবু অন্ততঃ একটা ভালো দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী করা হোক, এটাই চাইছে আসানসোল শিল্পাঞ্চলের মানুষ। সাধারণ মানুষের এই আশা কতটা পূরণ হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।