ইস্টবেঙ্গলের স্পোর্টিং রাইটস কিনতে আগ্রহী রঞ্জিত বাজাজ

268

জয়দীপ বসু, নয়াদিল্লি : প্রবল সমস্যায় হাবুডুবু খেতে থাকা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ঘোলাজলে মাছ ধরতে যাঁরা নেমে পড়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মিনার্ভা অ্যাকাডেমি মালিক রঞ্জিত বাজাজও। বুধবার রাতে তিনি চণ্ডীগড় থেকে জানালেন, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ইনভেস্টার কোয়েস কর্পের কাছে ক্লাবের স্পোর্টিং রাইটস (ফুটবল ও ক্রিকেট) সহ যে ৭০ ভাগ শেয়ার আছে তা কিনে নেওয়ার জন্য কোয়েসের সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তা শুরু করেছেন তিনি। একসময়কার আই লিগ চ্যাম্পিয়ন মিনার্ভা পাঞ্জাব এফসির প্রাক্তন মালিক বাজাজের দাবি, এই ব্যাপারে কোয়েসের সঙ্গে তাঁর একটি খসড়া চুক্তিও তৈরি হয়েছে প্রায় দুসপ্তাহ আগে। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল ক্লাব কর্তৃপক্ষ যদি প্রয়োজনীয় টাকা দিয়ে এই রাইটস এবং শেয়ারগুলি কোয়েসের কাছ থেকে কিনে নেয়, তাহলে তাঁর কিছু করার থাকবে না। কিন্তু কোয়েস যদি এই রাইটস অন্য কারও কাছে বিক্রি করার কথা ভাবে, তাহলে তিনি হবেন অন্যতম দাবিদার।

শেষ অবধি এই রাইটস বিতর্ক কোন জায়গায় পৌঁছাবে জানা না গেলেও, একটা কথা পরিষ্কার- ক্লাবের স্পোর্টিং রাইটসের কর্তৃত্ব এই মুহূর্তে হয়ে দাঁড়িয়েছে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোয়েস ও ইস্টবেঙ্গল মিলে দুবছর আগে কোয়েস ইস্টবেঙ্গল ফুটবল ক্লাব নামে যে কোম্পানিটি তৈরি করেছিল, তার সব মিলিয়ে শেয়ার আছে ১৪,৭৮,৫৭১ টি। এর মধ্যে ১০,৩৫,০০০ শেয়ার রয়েছে কোয়েসের হাতে, বাকিগুলি রয়েছে ক্লাবের তরফে মনোনীত ব্যক্তিদের হাতে। স্বভাবতই শতকরা ৭০ ভাগ শেয়ার কোয়েসের হাতে থাকার দরুন কোম্পানিটির পরিচালনায় ইনভেস্টরদের প্রভাবই বেশি, স্পোর্টিং রাইটসও তাদের কাছে। সুতরাং যতদিন এই রাইটস কোয়েসের কাছে থাকবে, ততদিন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ফুটবল ও ক্রিকেট বিষয়ক ব্যাপারে তাদের কথাই চূড়ান্ত বলে গ্রাহ্য হওয়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই প্রবল। সূত্র বলছে কোয়েস এই রাইটস ফিরিয়ে দিতে উৎসুক কিন্তু তার জন্য যে পরিমাণ অর্থ তারা দাবি করছে, তা দেওয়ার মতো অবস্থায় আপাতত নেই ইস্টবেঙ্গল কর্তৃপক্ষ।

- Advertisement -

যাবতীয় গণ্ডগোলের সূত্রপাত সেখানেই। চুক্তিপত্র অনুযায়ী ইস্টবেঙ্গল যদি টাকা দিতে না পারে, তাহলে কোয়েস তাদের শেয়ারসহ যাবতীয় স্পোর্টিং রাইটস বিক্রি করে দিতে পারে কোনও তৃতীয় ব্যক্তিকে; যদিও ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে সেকথা লিখিতভাবে জানিয়ে সুযোগ দিতে হবে সমপরিমাণ টাকা দিয়ে শেয়ার কিনে নেওয়ার। বাজাজ বলছেন, সপ্তাহ দুয়েক আগে আমি এই ব্যাপারে কোয়েস কর্তৃপক্ষর সঙ্গে কথা বলি। একটি খসড়া চুক্তিও তৈরি হয়। আমাকে একটি বিশেষ অঙ্কের টাকার কথা বলা হয়েছে। আমি সেই টাকা দিতে রাজি আছি। কিন্তু তার আগে কিছু আইনি ব্যাপার আছে। এই টাকা যদি ইস্টবেঙ্গল কর্তারা কোনওভাবে দিয়ে দেন, তাহলে আমার আর কিছু করার থাকবে না। আর তাঁরা যদি না দিতে পারেন, তাহলে তৃতীয় ব্যক্তি হিসাবে ওই শেয়ার কিনে নেওয়ার ব্যাপারে আমার একটা সুযোগ থাকছে। তবে অন্য কোনও সংস্থা এই স্পোর্টিং রাইটস কিনতে আগ্রহী কি না আমার কোনও ধারণা নেই। সূদুর চণ্ডীগড়ে বসে ইস্টবেঙ্গলের মতো একটি ঐতিহ্যমণ্ডিত ক্লাবের ৭০ ভাগ মালিকানা কিনে নেওয়ার পিছনে কারণ ও উদ্দেশ্য কী প্রশ্ন করা হলে বাজাজ বলেন, এখনও অবধি এই নিয়ে কথা বলার মতো সময় আসেনি। তবে ইস্টবেঙ্গলের মতো বিখ্যাত ক্লাবের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলতে আমি গর্ব অনুভব করব।