যুবতিকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতেই গ্রেপ্তার অভিযুক্ত প্রেমিক

314

দূর্গাপুর, ৯ জানুয়ারিঃ যুবতিকে ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগে ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়াল। শুক্রবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার দূর্গাপুর পুরনিগমের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের নবীনপল্লী এলাকার এই ঘটনায় এলাকারই এক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি যুবকের আরও ৩ বন্ধুর বিরুদ্ধেও ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ। মৃত যুবতীর নাম সন্তোষী বাউরি (১৯)। মৃতা নিউটাউন শিপ থানার কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা ছিল বলে জানা গিয়েছে।

এলাকাবাসী দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হন। বিযয়টি নিয়ে শনিবার সকাল থেকে নিউ টাউনশিপ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভে সামিল হন এলাকার বিজেপি ও সিপিএম নেতা-কর্মীরা। বিকেলে অভিযুক্ত যুবক তথা মৃতার প্রেমিক রাকেশ বাউরিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ধৃত যুবকের বাবা এলাকার তৃনমুল কংগ্রেসের নেতা বলে এলাকায় পরিচিত। আসানসোল জেলা হাসপাতালে যুবতির মৃতদেহ ময়নাতদন্ত হয়। পরে পরিবারের হাতে সেটি তুলে দেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবতির সঙ্গে অভিযুক্ত যুবক রাকেশ বাউরির প্রায় ৬ বছরের প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল। দু’মাস আগে যুবতি বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় সেই প্রণয়ের সম্পর্ক ছিন্ন হয়। মৃতার দিদি মঞ্জুরি বাউরি বলেন, ক্লাবে একটি সভায় রাকেশ আমার বোনকে খুন করার হুমকি দিয়েছিল। এরপর থেকে আমার বোন রাকেশের সঙ্গে কোন যোগাযোগ রাখত না। বৃহস্পতিবার রাতে রাকেশ আমার বোনকে ফোন করে। একবার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে অনুরোধ করেছিল।

সেই মতো শুক্রবার রাতে রাকেশ বোনকে বাড়ি থেকে ডেকে নবীনপল্লী এলাকায় ইন্দিরা আবাসনের এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে রাকেশ ও তার আরও ৩ বন্ধু মিলে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমার ছোটো ভাই ও ভাইপোকে রাকেশের বন্ধু মিঠুন বাউরি রাত ১১ টা নাগাদ ফোন করে সন্তোষীর শরীর খারাপ বলে নবীনপল্লীতে ডেকেছিল। তা পরেই আমরা বোনের মৃত্যুর কথা জানতে পারি। মৃতার ভাইপো দীপ বাউরি ও ভাই বিক্রম বাউরি বলেন, মিঠুন ফোন করে ডাকার পরে আমরা ওই আবাসন এলাকায় গিয়ে দেখি সন্তোষীকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করি। তখন সেখানে ছিল রাকেশ, মিঠুন, অর্জুন সহ আরও এক যুবক।

মৃতার ভাইপো এবং ভাই আরও বলেছেন, তারা আমাদের বলে সন্তোষীর শরীর অসুস্থ হয়ে গেছে। তারাই আমাদেরকে সন্তোষীকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। কোনও কিছু না ভেবে তাদের কথা মতো আমরা সন্তোষীকে সাইকেলে বসিয়ে বাড়ি নিয়ে আসার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু বি-টু এলাকার বাসিন্দারা সন্দেহ করে আমাদের আটকে দেয়। তারা আমাদের বাড়িতে খবর দিতে বলে। ওরাই থানায় খবর দেয়। পরিবারের লোক ও পুলিশ আসে। পরে সন্তোষীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সেই সুযোগে ঘটনাস্থল থেকে রাকেশ সহ বন্ধুরা পলিয়ে যায়।

এলাকার সিপিএম নেতা রাকেশ শর্মা ও বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওই অভিযুক্ত যুবক ও তার বাবা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাও কর্মী বলে এলাকায় পরিচিত। অভিযুক্ত যুবক রাকেশ যুবতিকে ধর্ষণ করে খুন করার মত জঘন্য কাজ করেছে। আমাদের দাবি, দোষীদের গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করুক পুলিশ। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা স্থানীয় কাউন্সিলার দেবব্রত সাঁই বলেন, এই ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে আমি এলাকার বাসিন্দাদের সকাল থেকে থানার সামনে বসেছিলাম। পুলিশকে দাবি জানিয়ে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি তোলা হয়েছিল। ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে সমস্তরকম আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা বলেন, মৃত যুবতির সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের দীর্ঘদিনের প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে যুবতির শরীরের কোথায় কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তে যুবতীকে খুন করা হয়েছে, এমনটাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। অনুমান করা হচ্ছে কোনওভাবে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।