৭৬ বছর বয়সী দৃষ্টিহীন বৃদ্ধাকে ধর্ষণ, প্রশ্নের মুখে রেল স্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

439

বর্ধমান: দুস্কৃতির পৈশাচিক যৌন লালসার শিকার হলেন ৭৬ বছর বয়সী দৃষ্টিহীন বৃদ্ধা। বর্ধমান-হাওড়া মেইন শাখার মেমারি স্টেশানের ঘটনা। রাতের অন্ধকারে ওই বৃদ্ধাকে জোর পূর্বক রেল লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়ির নিচে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।

এই পৈশাচিক ঘটনাটি গত ৬ জুন এর। ঘটনার ১১ দিন পর গোটা বিষয়টি জানতে পারেন মেমারির এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা। তাঁরাই বুধবার রাতে ওই বৃদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে বর্ধমান জিআরপি‘তে ধর্ষণ ও মারধোরের অভিযোগ দায়ের করেছেন। ধর্ষনের মামলা রুজু করে জিআরপি তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে চিকিৎসার জন্য ওই বৃদ্ধাকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বছর দুই আগেও চা খাওয়ানোর নামকরে এক ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। সেই বৃদ্ধার অস্ত্রপচারও হয়। এভাবে একের পর এক নারকীয় ঘটনা সামনে আসায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাতের রেল স্টেশানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

- Advertisement -

ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সূত্রে খবর, বৃদ্ধার উপর হওয়া নারকীয় নির্যাতনের বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন। তারপর ঘটনার বিষয়ে সবিস্তার জানতে বুধবার মেমারি স্টেশানে গিয়ে তাঁরা বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলেন। বৃদ্ধার তাঁদেরকে জানান, “ তাঁর বয়স ৭৬ বছর। তিনি চোখে দেখতে পান না। মেমারি স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ছাউনির নিচে তিনি থাকেন। গত ৬ জুন রাতে স্টেশনের ছাউনির নিচে তিনি একাই ঘুমাচ্ছিলেন। সেদিন গভীর রাতে বুট জুতো পরা হিন্দি ভাসি এক দুস্কৃতি সেখানে হানা দেয়। বৃদ্ধা বলেন , ওই দুস্কৃতি তাঁর গলা টিপে ধরে জোরপূর্বক স্টেশানের পিছন দিকে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়ির নিচে নিয়ে গিয়ে ঢুকিয়ে দেয়। এরপর ওই হিন্দি ভাষী দুস্কৃতি তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন চালায় ও ধর্ষণ করে। ঘটার কথা কাউকে জানালে প্রাণে মেরে দেওয়া হবে বলে ওই জায়গাতেই বৃদ্ধাকে ফেলে রেখে পালায় দুস্কৃতি।

এদিকে স্টেশন চত্ত্বরে থাকা দৃষ্টিহীন বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ জমা পড়ার পরেই নড়ে চড়ে বসেছে রেল পুলিশ। বৃহস্পতিবার বর্ধমান জিআরপিতে আসেন রেল পুলিশের আধিকারিক জয়জিৎ লোধ। তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য ও অভিযোগকারীনির সঙ্গে কথা বলেন। জয়জীৎ বাবু বলেন , ‘অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণের মামলা রুজু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানাগিয়েছে আততায়ী একজনই ছিল। আততায়ীর খোঁজ পেতে বিভিন্ন সূত্র কাজে লাগানো হচ্ছে। প্রয়োজনে জেলা পুলিশেরও সাহায্য নেওয়া হবে। যদিও পুলিশের সন্দেহ বহিরাগতরা কেউ এই ঘটনায় জড়িত নয়। স্থানীয়দের কেউই এই নারকীয় ঘটনা ঘটিয়েছেন।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। এদিন বীরভূম যাওয়া পথে বর্ধমান জেলা বিজেপি পার্টি অফিসে আসেন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় ও সৌমিত্র খাঁ। সেখানে গালওয়ানে শহীদ ভারতীয় সেনাদের  শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, একের পর এক মহিলারা নির্যাতিত হচ্ছেন। অথচ রাজ্যের মহিলা মুখ্যমন্ত্রী চুপ রয়েছেন।