রাজ্যে শুরু র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট, ৩০ মিনিটেই মিলবে করোনা পরীক্ষার ফল

প্রতীকী ছবি।

অনলাইন ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মত বাংলায় শুরু হল র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট। বৃহস্পতিবার কলকাতা পুরনিগমের ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের চেতলা পার্কের কাছে অহীন্দ্র মঞ্চে ক্যাম্প করে অ্যান্টিজেন টেস্ট চালু হয়। পুরনিগমের প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারম্যান ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন। এদিন দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালেও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, কারোর দেহে করোনা ভাইরাস আছে কিনা, এই পরীক্ষার মাধ্যমে তা মাত্র ৩০ থেকে ৪০  মিনিটে জানা সম্ভব। এদিন চেতলার ক্যাম্পে ৫০ জনের লালার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাতে ১০ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এবার থেকে পুরনিগমের ১৬টি বরোয় র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হবে। আাপাতত রোজ এক হাজার মানুষের র‌্যাপিড টেস্ট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

তবে এই পদ্ধতিতে নমুনা পরীক্ষা করার কিছু ত্রুটিও আছে। কারণ র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে সবসময় ১০০ শতাংশ নিখুঁত ফল আসে না। এই সংক্রান্ত একটি মামলায় সম্প্রতি কেজরিওয়াল সরকারকে দিল্লি হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। বেশীরভাগ বিশেষজ্ঞের মতে, আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে লালা পরীক্ষা করে করোনা নির্ণয় সবচেয়ে কার্যকরী। তবে এই পদ্ধতিতে সময়সাপেক্ষ।

আরটি-পিসিআরে অনেকসময় রিপোর্ট আসতে বেশকয়েকদিন সময় লেগে যায়। তবে এই পদ্ধতিতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সেজন্য ট্রুনাট বা সিবিনাট-এ পরীক্ষা করার পর সেই ফল সম্পর্কে সুনিশ্চিত হওয়ার জন্যও আরটি-পিসিআরে লালার নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হয়। তবে দ্রুত কোনও এলাকার করোনা পরিস্থিতি যাচাই করার জন্য র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট বেশী কার্যকরী। এই টেস্টের মাধ্যমে সেই উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তদেরও চিহ্নিত করা সম্ভব।

মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, রাজ্যে লালা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ছে, তাই করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। রাজ্যের ৫৬টি ল্যাবে দিনে ১৬ থেকে ১৭ হাজার লালা পরীক্ষা হচ্ছে। বাংলায় খুব দ্রুত অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হতে চলেছে বলে সেদিন জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। অবশেষে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মত রাজ্যের দুই জায়গায় শুরু হল র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট।