করোনা আবহে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাস পুজোর আয়োজন

385

অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি: করোনা আবহেই হচ্ছে রাসের পুজো। কিন্তু এবার রাস উৎসবের আনন্দে কিছুটা ভাঁটা পড়েছে। স্বাস্থ্যবিধির কথা মাথায় রেখে কমিটির তরফে রাস উৎসব উপলক্ষ্যে আয়োজিত মেলা বন্ধ রাখারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই মন খারাপ কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ি ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী হেমকুমারী গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের। হলদিবাড়ি ব্লকের মধ্যে রাস উপলক্ষ্যে একমাত্র হেমকুমারীর লীলাহাটিতে বড়ো মেলার আয়োজন করা হতো। এবছর সেই রাস মেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেলা কমিটির সদস্যরা।

মেলা কমিটি সূত্রে খবর, এবছর রাস পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে আগামী রবিবার উৎসব পালন হলেও মেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির তরফে জীবীতেশচন্দ্র রায়, শ্যামল ব্যাধ, মণীন্দ্রনাথ রায় জানান, অতীতে এই মেলার সঙ্গে কোচবিহারের রাস মেলার যোগসূত্র ছিল। সেসময় পনেরোদিন ব্যাপী মেলা চলত। মেলা চলাকালীন রাজ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দুই তিনজন মেলাতে আসতেন। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এই মেলা দেখতে আসতেন। মেলা প্রাঙ্গণে বসত নানা ধরনের দোকানপাটও। পূর্ণার্থীদের মনোরঞ্জন করতে মন্দির প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হত। ওই সময় বাংলাদেশের সীমান্তে কড়াকড়ি ব্যবস্থা না থাকায় ওপার বাংলাদেশ থেকেও বহু মানুষ লীলাহাটির রাস উৎসবে যোগদান করতেন। কিন্তু বর্তমানে সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঁটা তারের বেড়া হওয়ায় তা আর সম্ভব হয় না।

- Advertisement -

মেলা কমিটির রেবতী ব্যাধ, সঞ্জীব ব্যাধ জানান, ১৯৬৩ সাল নাগাদ এখানে প্রথমে একটি খড়ের ঘর নির্মাণ করে মন্দির স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে তারাচাঁদ আগরওয়াল, রাস মেলা কমিটি এবং মেখলিগঞ্জ প্রাক্তন বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারীর সহযোগিতায় মন্দিরটি পাকা করা হয়। মেলা প্রাঙ্গনটি জয়মনেরডাঙ্গা বলে পরিচিত ছিল। তৎকালীন এই মাঠে বড় ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হতো। তদানীন্তন কোচবিহারের রাজা জগদ্বীপেন্দ্র নারায়ণ নিজে ফুটবল খেলা দেখতে আসতেন। কালের বিবর্তনের সঙ্গে জয়মনেরডাঙ্গা নাম বদলে হয়েছে লীলারডাঙ্গায়। তারপর লীলারডাঙ্গা রূপান্তরিত হয়ে বর্তমান নাম লীলাহাটি হয়েছে।

কোচবিহারের রাজ পরিবারের স্মৃতি বিজড়িত এই উৎসব বর্তমানে নিজের গরিমা হারিয়েছে। আগের মতো মহা ধুমধামে এর আয়োজন করা হয় না। ১৫ দিনের পরিবর্তে বিগত কয়েক বছর ধরে মাত্র তিনদিনের জন্য মেলার আয়োজন করা হয়। কমিটির তরফে মণীন্দ্রনাথ রায় জানান, অতীতে এক নিঃসন্তান বিধবা বৃদ্ধা এই রাস মেলার সূচনা করেছিলেন। ওই নিঃসন্তান প্রবীণা মুণ্ডুরি বুড়ি নামে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তিনি প্রথম ১৯৫৮ সালে রাস উৎসবের আয়োজন করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঐকান্তিক চেষ্টায় রাস উৎসবটি রাস মেলায় রূপান্তরিত হয়।

উৎসব কমিটির তরফে ফণীভূষন রায় জানান, মেলা প্রাঙ্গণের জমি জটের কারণে গতবছরও মেলার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। মোট ১৩ বিঘা জমির উপর মেলাটির আয়োজন করা হয়। এরমধ্যে ১০ বিঘা জমি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। তাই গতবছর ওই জমিতে মেলার আয়োজন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। এবছর ফের করোনা পরিস্থিতির জন্য নিষ্ঠা সহযোগে পুজোর আয়োজন করা হলেও মেলাটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।