দখল হচ্ছে কোচবিহারের রাসমেলার মাঠ, উদাসীন প্রশাসন

268

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : ক্রমশ দখল হয়ে যাচ্ছে কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী রাসমেলার মাঠ। মাঠের মধ্যে পলিথিনের চাদর ঢাকা একাধিক চালাঘর গড়ে উঠেছে। সেগুলি মাছের আড়ত হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে। মাছ রাখার থার্মোকলের বাক্স মাঠের যেখানে-সেখানে ভেঙে পড়ে থাকছে। আবার কয়েকটি চালায় নতুন-পুরোনো হাজার হাজার বাঁশ রাখা হচ্ছে। মাঠের মধ্যেও বাঁশ ফেলে রাখা হয়েছে। এছাড়া মাঠের কোথাও কাপড় শুকোতে দেওয়া, নানারকম জিনিস রাখা হচ্ছে। দিনের পর দিন এভাবে চলতে থাকায় জবরদখলের পাশাপাশি মাঠের সবুজ নষ্ট হচ্ছে। নাকের ডগায় এই ধরনের কাজ চলা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুরসভা ও প্রশাসনের প্রতি ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। কোচবিহার সদরের মহকুমা শাসক সঞ্জয় পাল জানান, করোনা আবহে মাছ বাজারে ভিড় এড়াতে অস্থায়ীভাবে মাছের আড়ত রাসমেলার মাঠে করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই তা ওখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে মাছের আড়তের পাশে বাঁশ কেন মাঠে রাখা হয়েছে, সেই প্রশ্নের জবাব মেলেনি।

প্রতি বছর রাসমেলা মাঠে মদনমোহনদেবের রাস উৎসব উপলক্ষ্যে মেলা বসে। গত বছর উন্নয়ন দপ্তরের তরফে কোটি টাকার বেশি খরচ করে মাঠটি উঁচু করা হয়। কিন্তু যেভাবে মাঠে মাছের আড়ত বসেছে, তাতে মাঠের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ অনেকের। কোচবিহার নাগরিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি রাজু রায় বলেন, ঐতিহ্যবাহী রাসমেলার মাঠে মাছের আড়ত সহ মাঠের এমন বেদখলের বিষয়টি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের চরম উদাসীনতার কারণেই এটা হয়েছে। অবিলম্বে মাঠটিকে তার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের দ্বারস্থ হব। অ্যাসোসিয়েশন বেটার অফ কোচবিহারের সভাপতি তথা বিশিষ্ট আইনজীবী আনন্দজ্যোতি মজুমদার বলেন, সম্প্রতি কোটি টাকার বেশি খরচ করে মাঠটিকে সুন্দর করে তুলেছিল উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। এরপর মাঠের এমন বেহাল অবস্থা কোনওভাবেই মানতে পারছি না। অবিলম্বে মাঠটিকে দখলমুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

- Advertisement -

কোচবিহার পুর প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান ভষণ সিং বলেন, আমরা রাসমেলার সময় ব্যবহার করলেও মাঠটি আসলে জেলা প্রশাসনের। প্রশাসনই মাঠটি দেখভাল করে। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী রাসমেলার মাঠে এসব কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই প্রশাসন অবিলম্বে দখলমুক্ত করে মাঠ পরিষ্কার করুক। প্রশাসন চাইলে পুরসভাও এই কাজে সাহায্য করবে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ঐতিহ্যবাহী রাসমেলার মাঠে মাছের আড়ত সহ কোনওকিছুই থাকা ঠিক নয়। মাঠটি জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের। তাদের বিষয়টি অবশ্যই দেখা উচিত। পাশাপাশি পুরসভার প্রশাসকের বিষয়টি দেখা উচিত, যাতে মাঠটি বেদখল না হয়ে যায়।