প্রেমেতে হার! আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিল প্রেমিক-প্রেমিকা, চাঞ্চল্য

132
Mekhliganj PS

মেখলিগঞ্জ: প্রেমেতে হার মেনে শেষ অবধি আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন প্রেমিক ও প্রেমিকা। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল মেখলিগঞ্জ ব্লকের চ্যাংরাবান্ধা গ্রামপঞ্চায়েতের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ১৫৭ জামালদহ চিতিয়ারডাঙ্গা গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে মৃত ওই যুগলের নাম মিনতি সরকার এবং অসীম মণ্ডল।

তাঁরা দুজনেই চিতিয়ারডাঙ্গা গ্রামেরই বাসিন্দা। শুক্রবার রাতে তাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রেমিক প্রেমিকার বাড়ির লোকজন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতেই বাড়ির পাশের রেল লাইনের ধার থেকে মিনতির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অপরদিকে ওই রাতেই গ্রামের ফরেস্ট লাগোয়া এলাকায় মিনতির মৃতদেহ যেখান থেকে উদ্ধার হয় তার থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে অসীম বিষপান করেন। এরপরে তারও মৃত্যু হয় বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মৃত্যুর আগে অসীম নিজের ফেসবুক ওয়ালেও এই সংক্রান্ত একটি পোস্ট করেন। যেখানে কিছু ছবিও পোস্ট করেন। এরপর একইদিনে পাশাপাশি যুবক-যুবতীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার পরেই তাদের প্রেমের সম্পর্ক সকলের কাছে সামনে আসে। তাদের পরিবার সূত্রেই জানা গিয়েছে, সম্প্রতি মিনতির বিয়ে ঠিক হয়েছিল ফালাকাটার এক যুবকের সঙ্গে। শুক্রবার রেজিস্ট্রিও হয়। এরপরেই মিনতি এবং অসীমের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় এবং তাদের পরিবারের একাংশের তরফে জানানো হয়, মিনতি এবং অসীমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাঁরা নাকি বিয়েও করতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু এক্ষেত্রে বাঁধ সেঁধেছিলেন অনেকে।

- Advertisement -

এরইমধ্যে মিনতির অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। অন্যত্র বিয়ে ঠিক হবার বিষয়টি দুজনে মেনে নিতে না পারার কারণেই তাঁরা মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। গ্রামেরই বাসিন্দা সুবল চন্দ্র মণ্ডল। যিনি সম্পর্কে মিনতির কাকা। পাশাপাশি অসীম ও সুবলবাবুর আত্মীয়। সুবলবাবু বলেন, ‘এভাবে যে দুটি তরতাজা প্রাণকে অকালে চলে যেতে হবে সেটা ভাবতেই পারছি না। কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওরা পৃথিবী ছেড়ে গেল।’ স্থানীয় গ্রামপঞ্চায়েত সদস্য স্বপ্না রায় বর্মন বলেন, ‘শুনছি ওদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ওদের এভাবে চলে যাবার বিষয়টি মেনে নিতে পারছি না।’

খবর পেয়েই মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাথাভাঙ্গার মর্গে পাঠিয়ে দিয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলাও রুজু করেছেন তাঁরা। এবিষয়ে মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশের ওসি ভাস্কর রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এনিয়ে কোনও তরফেই এখনও অবধি লিখিত কোনওরকম অভিযোগ জমা পড়েনি। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।’