বানারহাটে বিজেপির ঝান্ডা রাখা অফিসে মিলল র‍্যাশনের সামগ্রী, উত্তেজনা

835

গয়েরকাটা: বৃহস্পতিবার ধূপগুড়ি ব্লকের সাঁকোয়াঝোরা ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তেলিপাড়ার একটি গোডাউন থেকে প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনায় বরাদ্দ র‍্যাশনের চাল, আটার বস্তা মেলায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, এটি বিজেপির পার্টি অফিস। ওই গোডাউনের ভেতর বিজেপির সর্বভারতীয় স্তরের দুই নেতার ছবিও ঝোলানো ছিল। গোডাউনের বাইরে বিজেপির একটি পতাকা ছিল। যদিও বিজেপির ও সংশ্লিষ্ট গোডাউন মালিকের দাবি, যে ঘরে র‍্যাশনের চাল রাখা হয়েছিল সেটি একময়ে বিজেপির নির্বাচনী অফিস ছিল। সেটি দু’মাস আগেই বিজেপি ছেড়ে দেয়।

এদিন এলাকায় এনিয়ে ক্ষোভ ছড়াতেই ধূপগুড়ির খাদ্য দপ্তরের আধিকারিক সুপ্রকাশ মণ্ডল ও ধূপগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ সীমা চৌধুরী ঘটনাস্থলে আসেন। খাদ্য দপ্তরের স্বীকৃত নয় এমন ওই গোডাউনে র‌্যাশন ডিলার ২১৭ কুইন্টাল চাল ও ৩৯.৯ কুইন্টাল আটা মজুত রেখেছিলেন। এর জন্য ধূপগুড়ির খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়েন সংশ্লিষ্ট র‍্যাশন ডিলার। পরে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়।

- Advertisement -

পুলিশ সূত্রে খবর, খাদ্য দপ্তরের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই র‍্যশন ডিলার সন্ধ্যা পাল এবং রবীন্দ্রনাথ সাহা নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিন এই ঘটনার জন্য তৃণমূল বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। তৃণমূলের দাবি, ওই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করতে হবে।

তৃণমূলের বানারহাট সাংগঠনিক ব্লক সভাপতি নয়ন দত্ত বলেন, পার্টি অফিসে মজুত রেখে দলের নামে এই চাল বিতরণের নোংরা চক্রান্ত করছিল বিজেপি। র‍্যাশনের চাল বিজেপির পার্টি অফিসে আসবে কেন?  অথচ আজ প্রমাণ হয়ে গেল আসলে কারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। এই ঘটনার বিরুদ্ধে আমরা থানায় অভিযোগ জানাব।

যদিও বিজেপির উত্তর-পূর্ব মণ্ডল সভাপতি উমেশ যাদব বলেন, সংশ্লিষ্ট ঘরটি তারা লোকসভা নির্বাচনের সময় ভাড়া নিয়েছিলেন। দু’মাস আগে ঘরটি ছেড়েও দেন। লকডাউনের কারণে তারা সেখান থেকে তাঁদের দলীয় কিছু সামগ্রী নিয়ে আসতে পারেননি। বাড়ির মালিকের উচিত ছিল র‍্যাশন ডিলারকে ভাড়া দেওয়ার আগে তাঁদের একবার বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া। এক্ষেত্রে তৃণমূল তৃণমূল রাজনীতি করছে।

ওই র‍্যশন ডিলারের পক্ষে রবীন্দ্রনাথ সাহা বলেন, ঘরটি যে বিজেপির পার্টি অফিস ছিল কি না সেটা আমাকে ঘড়ভাড়া দেওয়ার সময় দোকান ঘরের মালিক জানাননি। তাই আমরা সেখানে খাদ্যসামগ্রী মজুত রাখি। বাড়ির মালিক এনিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।