র‌্যাশনের চাল, আটা বিকোচ্ছে খোলাবাজারে

দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি : র‌্যাশনে দেওয়া আটা ও চাল হাতবদল হয়ে খোলাবাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন চা বাগান এলাকাতেও ঘুরে ঘুরে বিক্রি করা হচ্ছে ওই আটা, চাল। জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন এলাকার চা বাগানগুলিতে গেলেই দেখা যাবে এই চিত্র। বাগান শ্রমিকরা জানিয়েছেন, তাঁরা অর্থের বিনিময়ে ওই আটা ও চাল কিনেছেন। যদিও খোলাবাজারে র‌্যাশনের আটা ও চাল বিক্রি হওয়ার কোনও অভিযোগ জেলা খাদ্য দপ্তরের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন দপ্তরের আধিকারিক অমৃত ঘোষ। তিনি বলেন, আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করলে সেটা পুলিশ প্রশাসনকে দেখতে বলা হবে। তবে এমন ঘটনা নিয়ে অনেক আগে জেলা শাসকের কাছে অভিযোগ জানানোর পরেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ বিরোধীরা রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের। তাঁদের দাবি, এই ঘটনার পিছনে বড় চক্র কাজ করছে।

করোনা মোকাবিলায় লকডাউন ঘোষণার পরে সাধারণ মানুষ যাতে খাদ্যশস্য নিয়ে সমস্যায় না পড়েন সে কারণে র‌্যাশনে অতিরিক্ত চাল, আটা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার। খাদ্য সুরক্ষা যোজনার কার্ডে আটা ও চাল দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও র‌্যাশনের অন্য কার্ডগুলিতে চাল পাচ্ছেন উপভোক্তারা। কিন্তু দেখা গিয়েছে, রাজ্য সরকার খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগ লেখা র‌্যাশনে দেওয়া ওই আটার প্যাকেট বহাল তবিয়তে বিক্রি করা হচ্ছে খোলাবাজারে। এখানেই শেষ নয়, র‌্যাশনের মাধ্যমে দেওয়া চালও বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এদিন ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের চা শ্রমিক রাজরুস ওরাওঁ বলেন, প্রতিদিন আমাদের বাগানের র‌্যাশনের আটা ও চাল বিক্রি করতে বাইরে থেকে লোক আসছেন। যে পরিমাণ আটা ও চাল বিক্রি করা হয় তাতে মনে হয় এর পিছনে অন্য বড় ধরনের চক্র রয়েছে।

- Advertisement -

শ্রমিকরা জানাচ্ছেন, এক কেজি আটার প্যাকেট ১২ থেকে ১৫ টাকা, আতপ চাল কেজিপ্রতি ১৭ টাকা এবং সেদ্ধ চাল কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২২ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। বাগানের বঙ্গীয় চা মজদুর মোর্চার সম্পাদক পঞ্চু মুন্ডা বলেন, কেবল আমাদের বাগান নয়, আশপাশের বাগানগুলিতেও এইভাবে র‌্যাশনের দেওয়া আটা এবং চাল বিক্রি করা হয়। এর আগে আমরা একবার ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলাম। কিন্তু ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন যাঁরা র‌্যাশন তোলেন তাঁদের কাছ থেকে আটা ও চাল কিনে নিয়ে তাঁরা এভাবে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছেন। কিন্তু যে পরিমাণ আটা, চাল নিয়ে আসা হয় তা থেকে সন্দেহ হয় এর পিছনে ডিলার যুক্ত থাকতে পারেন।

সূত্রের খবর, কেবল চা বাগান নয়, জলপাইগুড়ি শহরের কিছু দোকানেও র‌্যাশনে দেওয়া চাল ও আটা গোপনে বিক্রি করা হচ্ছে। দোকানদার কম দামে ওই চাল এবং আটা কিনে বেশি দামে বিক্রি করছেন। এক্ষেত্রে প্রশাসনের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা। তাঁদের বক্তব্য, এই ঘটনার পিছনে ডিলার থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের লোক জড়িত রয়েছেন। জেলা কংগ্রেস সভাপতি নির্মল ঘোষদস্তিদার বলেন, কোনও চক্র কাজ না করলে সরকারি জিনিস বাইরে খোলাবাজারে বিক্রি হতে পারে না। সিপিএমের জেলা সম্পাদক সলিল আচার্য বলেন, র‌্যাশন সামগ্রী নিয়ে দুর্নীতি নিয়ে আমরা আগেই জেলা শাসককে জানিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।