র‌্যাশনের চাল বস্তায় ভরে পাচার হচ্ছে অবাধে

0
364
- Advertisement -

শুভঙ্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি : গরিব মানুষের জন্য র‌্যাশনে বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু করেছে সরকার। টানা লকডাউনে কাজ হারিয়ে বিপদে পড়া মানুষের অন্যতম সহায় সেই র‌্যাশন সামগ্রী। তবে সরকারি দপ্তর থেকে খাদ্যসামগ্রী বের হলেও গরিব মানুষের হাতে পৌঁছানোর আগেই তা পাচার হয়ে যাচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতে। ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার (এফসিআই) গুদাম থেকে বের হওয়ার পর মাঝপথেই বস্তা বস্তা চাল চুরি হচ্ছে। চাল পাচারের এমনই বড়সড়ো চক্রের হদিস মিলেছে শিলিগুড়িতে। নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) রেলস্টেশন লাগোয়া জাবরাভিটার এফসিআই গুদাম থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন ব্লক ও মহকুমাগুলিতে খাদ্যশস্য যায়। জাবরাভিটা থেকেই কারবার চালাচ্ছে পাচারচক্রটি। প্রতিদিন কয়েকশো বস্তা চাল চুরি হচ্ছে। এফসিআইয়ের গুদাম থেকে বের হওয়ার পরই চালের বস্তাভর্তি লরি চলে যাচ্ছে সুনির্দিষ্ট ঘাঁটিতে। সেখানে কয়েক মিনিটের মধ্যে লরি থেকে দুই-তিন বস্তা করে চাল নামিয়ে নিচ্ছে কারবারিরা। নামানোর সঙ্গে সঙ্গেই সেলাই খুলে চাল ভরে ফেলা হচ্ছে অন্য বস্তায়। তারপর ভ্যানরিকশা, ছোট পণ্যবাহী লরিতে তুলে সেগুলি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে খোলাবাজারে। এনজেপি এলাকার কয়েকজন নেতার প্রত্যক্ষ মদতেই চাল চুরির চক্র রমরমা হয়েছে বলেই অভিযোগ।

জাবরাভিটার চারটি ঘাঁটিতে লরি থেকে চাল নামানো হচ্ছে। কোন লরি থেকে কোন ঘাঁটিতে চাল নামানো হবে তা নিয়ে চালকদের সঙ্গে আগে থেকেই সেটিং করে রাখছে কারবারিরা। সূত্রের খবর, দুটি চক্র সক্রিয় রয়েছে ওই এলাকায়। একটি চক্রের দুটি করে ঘাঁটি রয়েছে। পুলিশের নাকের ডগায় দীর্ঘদিন থেকে কীভাবে চাল পাচারের কারবার চলছে তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এফসিআইয়ের গুদামের ১০০ মিটারের মধ্যেই রয়েছে চারটি ঘাঁটি। জাবরাভিটা আন্ডারপাস পার করে বাঁ-দিকে ঘুরলেই পাচারচক্রের প্রধান ঘাঁটি। সেখান থেকে খানিকটা দূরে ওই চক্রের আরেকটি ঘাঁটি রয়েছে। আন্ডারপাস পার করে যে রাস্তাটি ইস্টার্ন বাইপাসের দিকে গিয়েছে সেই রাস্তায় একটু এগোলেই জাবরাভিটা হাউজিং কমপ্লেক্সের দিকে আরেকটি রাস্তা গিয়েছে। দুই রাস্তার সংযোগস্থলেই টায়ার রিসোলিং-এর দোকানের কাছেই লরি থেকে বস্তা নামানো হচ্ছে। সেখান থেকে কয়েক মিটার দূরে একটি হনুমান মন্দির। সেই মন্দিরের কাছেই আরেকটি ঘাঁটিতেও লরি থেকে বস্তা নামানো ও বস্তা বদলের কাজ চলছে।

সূত্রের খবর, এফসিআইয়ের চুরির চালচক্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিলিগুড়ির নয়াবাজারের তিনজন ব্যবসায়ী। ওই ব্যবসায়ীরাই চুরির চাল কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করছে। নয়াবাজার থেকেই চাল চলে যাচ্ছে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের খোলাবাজারে। এফসিআইয়ের বস্তা বদলে কোন ব্র‌্যান্ডের বস্তায় চাল ভরতে হবে সেই বস্তা কারবারিদের কাছে সরবরাহ করে ওই ব্যবসায়ীরাই। যারা বস্তা বদলের কাজ করে তাদের কাছে বস্তা সেলাইয়ের অত্যাধুনিক হাত মেশিন আছে। সেই মেশিন দিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বস্তার মুখ সেলাই করা যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, মাসখানেক আগে চুরির চাল সহ দুটি লরি আটক করেছিল শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের দুর্নীতিদমন শাখা। তবে শেষ পর্যন্ত ওই ঘটনায় কী পদক্ষেপ করা হয়েছে তা অবশ্য রহস্যময়। পুলিশের একাংশ বলছে, আটক করা লরি দুটি কয়েকদিন ধরে শিলিগুড়ি থানার সামনে রাখা ছিল। যদিও ওই বিষয়ে কিছুই বলতে চাননি পুলিশের কোনও আধিকারিক। চাল চুরি নিয়ে এফসিআইয়ের কোনও আধিকারিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। শিলিগুড়ি পুলিশের ডিসিপি (পূর্ব) জয় টুডু বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

- Advertisement -