জোড়া জাতীয় দলের পক্ষে শাস্ত্রী

আহমেদাবাদ : সাফল্য মানুষকে ভরসা দেয়। আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। আগামীর পথও দেখায়।

বিরাট কোহলির ভারতও এখন সাফল্যে ডুবে রয়েছে। যার ক্যাচলাইন হতেই পারে, চাপে পড়লেই ঘুরে দাঁড়িয়ে বাজিমাত!

- Advertisement -

এভাবেই স্যর ডনের দেশে সাফল্য এসেছে। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সফল হয়েছেন কোহলিরা। টেস্ট সিরিজের চমকপ্রদ সাফল্যের পর এবার সাদা বলের ক্রিকেটেও একই ছন্দ ধরে রাখার পালা। শুক্রবার থেকে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে ভারত বনাম ইংল্যান্ডের পাঁচ ম্যাচের টি২০। পরে তিন ম্যাচেও ওয়ান ডে সিরিজও রয়েছে। তার আগে আজ ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা লাল বলে সাফল্যের রেশ কাটিয়ে সাদা বলের অনুশীলনে ডুবে গিয়েছেন। মোতেরায় ভারতীয় দলের অনুশীলনে পুরো দলকেই দারুণ চনমনে দেখিয়েছে আজ।

অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া নেটে ব্যাটিংয়ের পাশে দীর্ঘসময় বোলিং করে প্রথম একাদশে ঢোকার দাবি জোরদার করেছেন। বলের দিকে না তাকিয়ে বলকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে দুনিয়াকে চমকে দিয়েছেন হার্দিক। সঙ্গে ভারতীয় দলের নেটে রকমারি শটের প্রদর্শনীর মাধ্যমে টিম ম্যানেজমেন্টকে ভরসা দিয়েছেন সূর্যকুমার যাদবও। অনুশীলনের পর সোশ্যাল দুনিয়ায় সূর্যকুমার বলেন, নীল রং, ব্যাট ও বাইশ গজ। ঘরের মতোই মনে হচ্ছে। কিংবদন্তি ভিভিএস লক্ষ্মণ আজ তাঁকে প্রশংসায় ভরিয়ে বলেন, উঠতি ক্রিকেটারদের কাছে রোলমডেল হতে পারে সূর্য। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলেও জাতীয় দলে সুযোগ না পেয়ে ধৈর্য হারায়নি ও। কাজটা সহজ নয় কারোর জন্যই।

সোজাকথায় শুক্রবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি২০ ম্যাচে সূর্যকুমারের আন্তর্জাতিক অভিষেক এখন সময়ে অপেক্ষা। সঙ্গে হার্দিক পান্ডিয়ার প্রত্যাবর্তনও। প্রথম একাদশের কিছু দিক নিয়ে হয়তো ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট এখনও ভাবছে। আর এই ভাবনার মধ্যে লুকিয়ে থাকা স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা স্বস্তি দিচ্ছে কোচ রবি শাস্ত্রীকে। তাঁর মনে হচ্ছে, ভারতীয় দলে এখন এত প্রতিভাবান ক্রিকেটার যে, একসঙ্গে দুটো দলও মাঠে নামিয়ে দেওয়া সম্ভব। আর সেই জোড়া দলেরই সফল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ভারতীয় কোচের কথায়, দুর্দান্ত স্বাস্থ্যকর একটা প্রতিযোগিতা চলছে ভারতীয় দলে। সাফল্যের জন্য দারুণ ব্যাপার এটা। সব বিভাগে আমাদের একাধিক পরিবর্ত রয়েছে হাতে। দুটো দল একসঙ্গে মাঠে নামাতে সমস্যা হবে না আমাদের।

রবি শাস্ত্রী দীর্ঘসময় ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে নানা ভূমিকায় জড়িয়ে। অতীতে তিনিও ভারতীয় দলের এমন শক্তিশালী রিজার্ভ বেঞ্চের কথা মনে করতে পারছেন না। জাদেজা নেই তো অক্ষর রয়েছে। সামি নেই তো শার্দূল বা সিরাজ রয়েছে। রোহিত না থাকলে মায়াঙ্ক, শুভমানরা দায়িত্ব পালন করছেন। শিখর ধাওয়ানকে সুযোগ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ঋষভ পন্থের ফর্ম কেএল রাহুলকে প্রথম একাদশের বাইরের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এমন সাফল্যের ছবির পিছনে করোনা অতিমারির নিয়ম রয়েছে।

শাস্ত্রীর কথায়, ভাবা যায় না গত ছয় মাসে কতজন ক্রিকেটার ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সফরে জৈব সুরক্ষা বলয়ে জন্যই এমনটা সম্ভব হয়েছে। আমরা সাধারণত ১৬-১৭ জন ক্রিকেটার নিয়ে বিদেশ সফরে যাই। করোনার জন্য সংখ্যাটা বেড়ে ২৫-৩০ হয়ে গিয়েছে এখন। ভারতীয় দলের ভালোই হয়েছে। যখনই কেউ চোট পেয়েছে, বিকল্প হিসেবে অন্য একজন সুযোগ পেয়ে দারুণ পারফর্ম করেছে। এর ফলে সেরা দল বাছাই করা আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে যাচ্ছে।