পুজোর ছুটিতে অবাধে পাচার হয়েছে চরতোর্ষার বালি, পাথর

419

ফালাকাটা : ফালাকাটার চরতোর্ষা নদী থেকে কোনোভাবেই বালি ও পাথর পাচার বন্ধ হচ্ছে না। দুর্গাপুজোর ছুটিকে কাজে লাগিয়ে বালি মাফিয়ারা এই কদিনে ডাম্পার বোঝাই করে দিনরাত বালিপাথর পাচার করেছে চরতোর্ষা থেকে। পুজোর চারদিন কিছুটা কম থাকলেও গত পাঁচদিনে অবাধে নদীর বুক থেকে বালি-পাথর চুরি হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল অবধি ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের পাশের এই নদী থেকে ট্রাক্টর ট্রলি ও ছোটো গাড়িতে করে বালি,পাথর পাচারের কারবার চলছে। ফালাকাটার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের কর্মীরা ছুটিতে থাকায় নদীতে চলা এই অবৈধ কারবারের দিকে প্রশাসনের তেমন নজরদারি নেই। ছুটিতে থাকায় ফালাকাটার বিএলএলআরও অবিনাশ লামার মোবাইল ফোন বন্ধের জন্য তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি কর্মাধ্যক্ষ প্রদীপ বর্মন বলেন, ‘অবৈধভাবে এই বালি,পাথর পাচারের কারবার অবশ্যই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

উত্তরের জলদাপাড়া বনাঞ্চল থেকে ফালাকাটা ব্লকের কিছু গ্রাম ছুঁয়ে  বয়ে গিয়েছে চরতোর্ষা নদী। নদীর উজানে বনাঞ্চল লাগোয়া এলাকা থেকেও বালি,পাথর অবাধে পাচার হয়। এই নদীর উপরে থাকা ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের চরতোর্ষা কাঠের সেতুটি দু’বছর থেকে ভেঙে রয়েছে। পাশে থাকা হিউম পাইপের ডাইভারশনের উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। আবার এই রাস্তায় তৈরি হচ্ছে ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর বা চার লেনের মহাসড়ক। ফালাকাটা ব্লক প্রশাসন সূত্রেই জানা গিয়েছে, চরতোর্ষা সহ গোটা ব্লকের কোনো নদী থেকেই বালি-পাথর তোলার পারমিট নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও বছরের বিভিন্ন সময়ে মূলত চরতোর্ষা থেকে এক শ্রেণির মাফিয়া অবাধে বালি পাথর পাচারের কারবার চালাচ্ছে।  অনেক সময় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর অভিযান চালালে দু-একদিন বালি,পাথর তোলা বন্ধ থাকে। কিন্তু পুরোপুরিভাবে এই কারবার বন্ধ না হওয়ায় ফালাকাটার ব্লক প্রশাসন,ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

- Advertisement -

দুর্গাপুজোর ছূটির সময়কে এবার টার্গেট করে বালি মাফিয়ারা। তারা ভালোভাবেই জানে যে,এই সময়ে সরকারি কর্মীদের ছুটি থাকায় নদীতে বা রাস্তায় সেভাবে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অভিযান হবে না। এজন্য দশমীর পর থেকেই জাতীয় সড়কের চরতোর্ষা ভাঙা সেতুর কয়েকশো মিটার দূরে ছোটো বড়ো বিভিন্ন গাড়িতে বালি ও পাথর তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আবার কখনও নদীর আশপাশ থেকে মাটিও পাচার হওয়ায় অনেক জায়গায় গর্ত তৈরি হয়েছে। পাশেই রয়েছে একটি শ্মশানঘাট। এই শ্মশানঘাটেরও ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় পরিবেশপ্রেমী সংস্থা ‘সবুজ পৃথিবী’র সম্পাদক সুজিত সরকার বলেন, ‘প্রতিদিন ছাড়া যেভাবে বালি,পাথর নদীবক্ষ থেকে তোলা হচ্ছে তা অবশ্যই উদবেগের বিষয়। প্রশাসনের উচিত নিয়মিত এই নদীতে অভিযান চালানো এবং যারা এই কারবারের সাথে যুক্ত তাদের বিরুদ্বে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া।’ ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অপর্না ভট্টাচার্য বলেন, ‘বিষয়টি যদিও আমাদের এক্তিয়ারের বাইরে কিন্তু বালি,পাথর যে ওই নদী থেকে মাঝে মধ্যে তোলা হয়, এটা মিথ্যা নয়। আগেও বিএলএলআরও-কে বিষয়টি কয়েকবার জানিয়েছিলাম। এখন অফিস ছুটি। তবু যাতে পদক্ষেপ করা হয় সেজন্য বিষয়টি ফের বিএলএলআরও-কে জানাচ্ছি।’

ছবি : পুজোর ছুটিতে দেদারে ফালাকাটার চরতোর্ষা নদী থেকে বালি তোলা হচ্ছে।

তথ্য ও ছবি : সুভাষ বর্মন