সৌরভ রায়, ফাঁসিদেওয়া : ফাঁসিদেওয়া ব্লকের চটহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের পেটকিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের কর্মতীর্থ ভবন তৈরি হওয়ার দেড় বছর পরও চালু করা গেল না। ফলে পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, কোটি টাকা খরচে তৈরি হওয়া ওই প্রকল্প এখন ঝোপের আড়ালে মুখ ঢেকেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্মতীর্থ ভবনটি রাতে সমাজবিরোধীদের আড্ডার জায়গায় পরিণত হয়েছে। দুষ্কৃতীরা ভবনের অনেক জানলার কাচও ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ। ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে কিনা, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সংশয় দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি, যে উদ্দেশ্য নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এটি চালু করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন, তা ওই গ্রামীণ এলাকায় কতটা সাফল্য পাবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা কর্মতীর্থটি এভাবে ফেলে না রেখে চালু করার দাবি জানিয়েছেন।

২০১৪ সালের মাঝামাঝি নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী গ্রামীণ কারিগর, মহিলা কারিগর, তাঁতি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সহ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা সহ গ্রামীণ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নিজস্ব পণ্য বিক্রির জন্য কর্মতীর্থ তৈরির প্রকল্প হাতে নেন। রাজ্যের প্রতিটি ব্লক মিলিয়ে মোট ২২৯টি কর্মতীর্থ ভবন তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়। এরমধ্যে সেই বছরই ৪৪টি কর্মতীর্থ তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৫-১৬ আর্থিক বর্ষে দার্জিলিং জেলার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের চটহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের পেটকিতে কর্মতীর্থ ভবন তৈরির কাজ শুরু হয়। রাজ্য সরকারের এমএসএমই ডিপার্টমেন্টের টাকায় শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ ওই প্রকল্প তৈরির দায়িত্ব নেয় এবং কাজ সম্পন্ন করে। এরপর ২০১৮ সালের মাঝামাঝি নাগাদ কর্মতীর্থ তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়।

অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটি তৈরি হওয়ার পর প্রায় দুবছর পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু, ২১টি স্টল এবং ১টি ওয়্যারহাউস বিশিষ্ট কর্মতীর্থটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা জিৎকুমার যাদব বলেন, বহুদিন থেকে এই প্রকল্পটি তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাজে লাগছে না। এটি চালু করা হলে, গ্রামের মানুষেরও সুবিধা হবে। অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা অনাথ রায় বলেন, কর্মতীর্থ ভবনটির যা হাল তাতে মনে হয় না এটি কোনোদিন চালু হবে। নরেশ তিরকি নামে অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, কর্মতীর্থটি চালু হলে, এলাকার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা লাভবান হবেন।

মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তাপস সরকার জানিয়েছেন, ফাঁসিদেওয়া বিডিও অফিস এখনও কর্মতীর্থটি তাদের কাছ থেকে নেয়নি। তবে আগামী কয়েদিনের মধ্যেই কর্মতীর্থ বিডিও অফিসকে হস্তান্তর করা হবে। ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার বলেন, শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ কর্মতীর্থ তৈরির পর সেটি হস্তান্তর না করায় ভবনটি চালু করা যায়নি। হস্তান্তর করলেই, কর্মতীর্থ চালু করে স্টলগুলি বণ্টন করা হবে।