বিতর্ক সঙ্গী করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে রিয়াল

মাদ্রিদ : চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদ আর বিতর্ক সমার্থক হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে সেই বিতর্ককে সঙ্গে নিয়ে আটালান্টাকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে তারা। দুই মরশুম পর ফের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে জিনেদিন জিদানের ছেলেরা। দুই পর্ব মিলিয়ে রিয়াল জিতল ৪-১ গোলে।

বিতর্কের সূত্রপাত প্রথমার্ধের শেষে। সেসময় বল পায়ে গোলের দিকে এগোচ্ছিলেন আটালান্টার লুইস মুরিয়েল। সেই আক্রমণের মাঝেই বিরতির বাঁশি বাজান রেফারি ড্যানি ডেসমন্ড। বিষয়টি নিয়ে তখনই চতুর্থ রেফারির কাছে প্রতিবাদ জানান আটালান্টার ডাগআউটে থাকা কোচ, ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফরা। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন আটালান্টার সমর্থকরা। তাঁদের বক্তব্য, রিয়ালকে সুবিধা করে দিতেই ৪৪ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডে বাঁশি বাজিয়েছেন রেফারি। সেসময় খেলা বন্ধ না হলে সমতা ফেরাত ইতালির দলটি। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও অভিযোগ জানায়নি আটালান্টা।

- Advertisement -

ম্যাচে অবশ্য দাপট দেখাল রিয়াল মাদ্রিদ। শুরু থেকে আক্রমণ করলেও রিয়ালের ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি আটালান্টা। এই ম্যাচে আটালান্টার নিয়মিত গোলরক্ষক পিয়েনলুইজি গোলিনি না থাকায় মার্কো স্পোর্তিয়েল্লো খেলেন। ৩৪ মিনিটে তাঁর ভুল কাজে লাগিয়ে লিড নেয় রিয়াল। মার্কো মিসপাস করলে বল যায় মদরিচের কাছে। তাঁর সাজিয়ে দেওয়া বল গোলে রাখতে ভুল করেননি বেঞ্জিমা। পঞ্চম ফুটবলার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৭০ গোল হয়ে গেল তাঁর। ক্লাবের জার্সিতে শেষ ৫ ম্যাচে ৬ গোল এই ফরাসি তারকার।

এদিন স্কিলের ঝলকে চোখ টানলেও গোল করতে ব্যর্থ ভিনিসিয়াস। ম্যাচের ৫২ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল ধরে একাই বিপক্ষের রক্ষণকে নাচিয়ে গোলের সামনে পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা করতে পারেননি। তবে তাঁর সৌজন্যেই দ্বিতীয় গোলটা পায় রিয়াল। বক্সের মধ্যে তাঁকে ফাউল করা হলে রিয়ালকে পেনাল্টি দেন রেফারি। ৬০ মিনিটে মাপা পেনাল্টিতে ২-০ করলেন র‌্যামোস। ৮৩ মিনিটে মুরিয়েলের ফ্রি কিক থেকে ব্যবধান কমায় আটালান্টা। কিন্তু মিনিট খানেকের মধ্যে মার্কো অ্যাসেন্সিওর গোলে কোয়ার্টারের টিকিট নিশ্চিত করে রিয়াল।

ম্যাচ শেষে গোটা দলের প্রশংসা করার পাশাপাশি মদরিচের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করে জিদান বলেছেন, আমরা জানি ওর বয়স ৩৫। কিন্তু মাঠে কখনই ওকে দেখে ৩৫ বছরের মনে হয় না। মাঝমাঠে ক্রুজ-মদরিচ জুটিকে এই সময়ে সেরা বলেও চিহ্নিত করেছেন তিনি। এদিন রিয়ালের প্রথম একাদশের গড় বয়স ছিল ২৯.৩ বছর। যা নিয়ে অধিনায়ক র‌্যামোস বলেন, বয়স নয়, মাঠের পারফরমেন্সই আমাদের হয়ে কথা বলে। কোয়ার্টার ফাইনালে সেই পারফরমেন্সই রিয়ালের বড় ভরসা হতে চলেছে।