জলপাইগুড়িতে অরাজনৈতিক প্রার্থীর সুপারিশ পিকের

4455

জলপাইগুড়ি : অগামী বিধানসভা নির্বাচনে জলপাইগুড়ি কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে প্রার্থী করতে চায়। পিকের দল অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে প্রার্থী করার পক্ষে মত দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শাসকদল সূত্রের খবর, এই তালিকায় রয়েছেন উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত ভাওয়াইয়া সংগীতশিল্পী দুর্গা রায় এবং বিশিষ্ট চিকিত্সক ডাঃ প্রদীপ বর্মা। তৃণমূল কংগ্রেস জলপাইগুড়ি আসন এখনও পর্যন্ত দখল করতে পারেনি। ২০১১ সালে তৃণমূল-কংগ্রেসের জোটের প্রার্থী হিসাবে কংগ্রেসের ডঃ সুখবিলাস বর্মা জয়ী হন। এবার জলপাইগুড়ি আসন দখল করতে তৃণমূল কংগ্রেস আদাজল খেয়ে লেগেছে। তবে এক্ষেত্রে শাসকদলের প্রধান সমস্যা হচ্ছে গোষ্ঠীকোন্দল। কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিকে প্রার্থী করা হলে এই কোন্দল আরও বাড়তে পারে। তাই কোনও অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসাবে প্রোজেক্ট করার ফর্মুলা বাতলেছে পিকের দল। এই ফর্মুলা অনুসারেই ভাওয়াইয়া সংগীতশিল্পী দুর্গা রায়কে জলপাইগুড়ি পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্যা করা হয়েছে। চিকিত্সক প্রদীপকুমার বর্মাকে জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা কেন্দ্রের কোঅর্ডিনেটর করা হয়েছে।

দুর্গা রায় জলপাইগুড়ি শহরের পান্ডাপাড়ার বাসিন্দা। শিল্পী হিসাবে সারা উত্তরবঙ্গজুড়েই তাঁর পরিচিতি। কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার এবং অসম থেকে এই শিল্পীকে সম্মানিত করা হয়েছে। দুর্গা রায়ের জনমানসে ভাবমূর্তি খুবই উজ্জ্বল। জলপাইগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটারদের একটি বড় অংশ রাজবংশী সম্প্রদায়ভুক্ত। দুর্গা রায়ও রাজবংশী সম্প্রদায়ভুক্ত। পাশাপাশি ডাঃ প্রদীপ বর্মাকে জলপাইগুড়ি শহরে সকলে একডাকেই চেনে। সুচিকিত্সক হিসাবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই ডাঃ বর্মাকে নিয়ে গ্রামেগঞ্জে সভা করছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের সঙ্গে প্রদীপ বর্মার পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে কর্মীরা ডাক্তার বর্মার সঙ্গে যোগাযোগও করছেন। জলপাইগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বর্তমান কংগ্রেস বিধায়ক ডঃ সুখবিলাস বর্মা একজন দক্ষ ভাওয়াইয়া সংগীতশিল্পীর পাশাপাশি লোকসংস্কৃতির গবেষক। এছাড়া তিনি প্রাক্তন আমলা। তাই সুখবিলাসবাবুর মতো একজন হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে শিল্পী দুর্গা রায় এবং ডাক্তার প্রদীপ বর্মার নাম সুপারিশ করেছে পিকের দল।

- Advertisement -

তবে ডাঃ প্রদীপ বর্মাকে এর আগেও জলপাইগুড়ি কেন্দ্রে প্রার্থী করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। মূলত সৌরভ চক্রবর্তী ও দুলাল দেবনাথ এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। যদিও তা বাস্তবায়িত হয়নি। দুর্গা রায় ও প্রদীপ বর্মা দুজনই রাজবংশী সম্প্রদায়ের। জনমানসে দুজনের পরিচিতি থাকলেও তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের কাছে ডাঃ বর্মা অনেক বেশি পরিচিত। সেদিক থেকে দুর্গা রায় একেবারে নতুন মুখ। তাই প্রদীপ বর্মার বদলে দুর্গা রায়কে প্রার্থী করা হলে কর্মীদের কাছে তাঁকে পরিচিত করতে সময় লাগবে বলে অভিমত রাজনৈতিক মহলের। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি জেলার মুখপাত্র দুলাল দেবনাথ বলেন, প্রার্থীর বিষয়ে দলের উচ্চ নেতত্ব সিদ্ধান্ত নেবেন। জেলাস্তরে কোনও সিদ্ধান্ত হবে না।