অস্ট্রিয়া আনপ্রেডিক্টেবল, তবে এগিয়ে মানচিনিরা

অর্ণব মণ্ডল : ইতালি বললেই আজ্জুরি নামটা বারবার কানে ভেসে আসে। ফুটবল মানচিত্রে ইতালির একটা সুদীর্ঘ ইতিহাস আছে, সেটা কখনও অস্বীকার করা যাবে না। আমার কাছে ইতালি মানেই বিশ্বকাপের সেমিফাইলিস্ট কিংবা ফাইনালিস্ট একটা দল। এহেন একটা দল যখন ২০১৮-র বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে পারল না, ফুটবলপ্রেমীরা হিসেবে ধাক্কা খেয়েছিলাম।

এমন পরিস্থিতিতে যেটা হয়, হৃতসম্মান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে দল। ইতালিও তাই করেছে রবার্তো মানচিনির হাত ধরে। ইতিহাস সাক্ষী, বিশ্বকাপ হোক কিংবা ইউরো ইতালি বরাবর উজ্জীবিত পারফরমেন্স উপহার দেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। টুর্নামেন্টের শুরুটা যত নিখুঁত হওয়া দরকার, সেটাই করেছে আজ্জুরিরা।

- Advertisement -

মানচিনি অভিজ্ঞ কোচ। ইউরোপে ক্লাব ফুটবলে পরিচিত নাম। উনি দায়িত্ব নেওয়ার পর দলটাকে ঢেলে সাজিয়েছেন এবং সেটা নিজের মতো করে। এবারের ইউরোয় ইতালির গ্রুপ যে খুব শক্ত ছিল তা বলব না, কিন্তু টিম হিসেবে মানচিনির দলকে খুব সংঘবদ্ধ দেখিয়েছে। কোচ যেটা চাইছেন ফুটবলাররা সেটাই মাঠে তুলে ধরছেন। দলের মধ্যে বোঝাপড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে না থাকলে, কোচের নিয়ন্ত্রণ দলের ওপরে না থাকলে এটা সম্ভবপর নয়।

দলটা টানা ৩০ ম্যাচ হারেনি। তারমধ্যে ১১টি ম্যাচ কোনও গোল খায়নি। অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান! অস্ট্রিয়া ম্যাচ জিতলে ৮৩ বছর আগের রেকর্ড ভেঙে দেবে মানচিনির ছেলেরা। টিমটার ছন্দ কোনও পর্যায়ে সেটা সহজেই অনুমেয়। আসলে জেতার যে খিদে সেটা ফুটবলারদের মধ্যে তৈরি করেছেন মানচিনি। সেই কৃতিত্ব ওঁর প্রাপ্য।

আমি আলাদা করে কৃতিত্ব দেব সিরি আ-কেও। যেকোনও দেশের ফুটবলের উন্নতিতে তাদের ঘরোয়া লিগের অবদান অনস্বীকার‌্য। সিরি আ-তে চোখ রাখলেই সেটা বোঝা যাবে। গত কয়েকবছরে ইতালি ফুটবলে পুরোনো জোয়ার ফিরেছে। সেই স্রোত ধরেই চেনা মেজাজে ফিরেছে আজ্জুরিরা।

ইতালির কথা বলতেই আরও একটা জিনিস চোখের সামনে ভাসে সেটা হল কাতানেসিও ডিফেন্স। মানচিনি সেই ছকে না খেললেও তাঁর রক্ষণভাগে দুটো ডায়মণ্ড হয়েছে। জর্জিও কিয়েলিনি আর লিওনার্দো বোনুচ্চি। কিয়েলিনি ফিট থাকলে অস্ট্রিয়া ম্যাচে নিশ্চিদ্র থাকবে ইতালির রক্ষণ, তা নতুন করে বলার নয়। তবে দুই সাইডব্যাকও দারুণ ফর্মে আছে। আমার ভালো লাগছে স্পিনাজোলাকে দেখে। মাঝমাঠে জর্জিনহো হচ্ছে মানচিনির চাবিকাঠি। ওই কিন্তু দলটাকে খেলাচ্ছে। আক্রমণভাগে ইনসিগনে, ইম্মোবাইল, বেরার্ডির সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়া তৈরি হয়ে গিয়েছে জর্জিনহোর।

তবে অস্ট্রিয়া লড়াকু দল। যেকোনও দিন অঘটন ঘটানোর ক্ষমতা ডেভিদ আলবাদের রয়েছে। দলটা দারুণ ওয়ার্কলোড নেয়। তবে প্রথম দুম্যাচে আলবাকে ভুল পজিশনে খেলানো হয়েছিল। ও আদর্শ লেফ্টব্যাক। আক্রমণে উঠে সাহায্য করতে পছন্দ করে। ওকে ওর স্বাভাবিক খেলা খেলতে দেওয়া উচিত। তাতে আরও ভালো হবে অস্ট্রিয়ার। তবে অস্ট্রিয়া আনপ্রেডিক্টেবল হতে পারে, কিন্তু ধারে ভারে শক্তিতে এগিয়ে আজ্জুরিরা। গ্রুপ পর্যায়ে দাপট বজায় রেখে শেষ ষোলোতেও ইতালি জিতলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।