মৃত্যুর আগে ভিডিও বার্তা রেকর্ড, মেধাবী ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

282

রায়গঞ্জ: সবমিলিয়ে আড়াই তিন মিনিটের ভিডিও। তাতে কাউকে বিদায় জানানোর ভঙ্গি। মুখে তাচ্ছিল্যের হাসি। কখনও বা মনটা ভার। এমন ভিডিও রেকর্ড করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল রায়গঞ্জ শহরের রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভট্টদিঘি গ্রামের এক মেধাবী কলেজ ছাত্রীর। মৃত ওই যুবতীর নাম সীতা সরকার(১৯)। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সীতা। তার শেষ মুহূর্তের ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভাইরাল। কার উদ্দেশ্যে এই ভিডিও বার্তা তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। মৃতের মোবাইলটি বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত শুরু করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।

জেলা পুলিশ সুপার সুমিত কুমার জানান, তদন্ত শুরু হয়েছে কি হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতার বাবা বিজেশ সরকার বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি মেয়ের শোয়ার ঘরে মোবাইল ফোন বাজছে ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না মেলায় জানালা ভেঙে দেখি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের রেলিঙে ঝুলছে।’ থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃতের কাকা সংশ্লিষ্ট সংসদের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য গৌতম সরকার বলেন, ‘পুলিশকে সমস্ত বিষয় জানানো হয়েছে। ফোনের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে আসল রহস্য।’

- Advertisement -

রায়গঞ্জ থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানান, প্রণয়ঘটিত কারণেই ওই ছাত্রী আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, পরিবারের তিন মেয়ের মধ্যে প্রথম মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে, জমজ দুই বোন সীতা সরকার ও গীতা সরকার। একজন বাংলা অন্যজন ইংরেজি স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া। দুজনেই মেধাবী বলে এলাকায় পরিচিত। আত্মঘাতী মেয়েটির মা মীরা সরকার দাবি করেন, এক যুবকের জন্যই তাঁর মেয়েকে মরতে হয়েছে।