জীবন বাজি রেখেই চলছে রামগোপালবাবুর ফলের দোকান

221

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: বিপদ জেনেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যুতের হাইভোল্টেজ ট্রান্সফরমারের নীচে পসরা সাজিয়ে ফল বিক্রি করে চলেছেন বছর ৬৫-র রামগোপাল সরকার। এক বা দুই বছর নয় একটানা প্রায় ২৫ বছর যাবৎ সেখানেই পসরা সাজিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ঘটনা প্রসঙ্গে রামগোপালবাবুর মন্তব্য, পরিবারের পাঁচ সদস্যের পেটের ভাত জোগাতে জীবনের ঝুঁকি নিতেই হচ্ছে। এছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই বলেই স্পষ্ট করেন তিনি। ঘটনাটি রায়গঞ্জ শহরের বিদ্রোহী মোড় লাইনবাজার এলাকার।

লাইনবাজারে ব্যস্ততম রাস্তার পাশেই রয়েছে দু’টি হাইবোল্টেজ ট্রান্সফরমার। সেখানেই কোনওমতে প্লাস্টিকের ছাউনি বানিয়ে নিত্যদিনই পসরা সাজিয়ে বসেন রায়গঞ্জের দ্বীপনগরের বাসিন্দা রামগোপালবাবু। ব্যবসা খুব একটা খারাপ না হলেও অনেক খদ্দের অবশ্য বিপদের আশঙ্কা করে পাশ কাটিয়ে চলে যান রামগোপালবাবুর দোকান। অন্যদিকে, রায়গঞ্জ পুরসভা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ দপ্তর এবং ব্যবসায়ী সমিতির তরফে তাঁকে অন্যত্র সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তবে শুধু রামগোপালবাবু নয়, তাঁর মতোন আরও অন্যন্য ব্যবসায়ীদের একই আবেদন জানানো হয়েছে। পুরসভার তরফে ভ্যান মেলায় ৪ ব্য়বসায়ী পাততাড়ি গুটিয়ে অন্যত্র সরে গেলেও জীবনের ঝঁকি নিয়ে ট্রান্সফরমারের নীচেই পসরা সাজিয়ে চলেছেন রামগোপালবাবু।

- Advertisement -

কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সকলের কথা মেনে সরে গেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে। করোনা আর লকডাউনে এমনিতেই তো প্রায় মরেই গিয়েছি।’ তাঁর কথায় দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ব্যবসা করছি। আজ পর্যন্ত কোনও বিপদ হয়নি। বিশ্বাস আগামীদিনেও হবে না। তিনি জানিয়েছেন, দু’টি ট্রান্সফরমারই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার হয়। তবে, বজ্রপাত সহ বৃষ্টি হলে ভয় লাগে। সেসময় দোকান ছেড়ে পেছনের মার্কেটে চলে যাই।

রায়গঞ্জ মার্চেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনু বন্ধু লাহিড়ীর কথায়, নিজের জীবনকে নিজেকে রক্ষা করতে হবে। কারন ট্রান্সফরমারের নীচে বসে ব্যবসা করা সত্যি বিপজ্জনক। বহুবার সতর্ক করা হয়েছে। রামগোপালবাবুর উচিত পাশের কোনও ফাঁকা জায়গায় সরে যাওয়া। রায়গঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাস বলেন, ‘ট্রান্সফরমারের নীচে যারা ব্যবসা করেন তাঁদের সরে যাওয়ার নোটিশ করা হয়েছে। রামগোপালবাবু যদি আমাদের সহযোগিতা চান নিশ্চয় করা হবে।’ অন্যদিকে, বিদ্যুৎ দপ্তরের রায়গঞ্জ ডিভিশনের ইঞ্জিনিয়ার অনিবার্ণ সরকার জানান, এবিষয়ে পুরসভাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশকিছু ব্যবসায়ী অন্যত্র সরে গিয়েছেন। লাইন বাজারের ব্যবসায়ীর সঙ্গেও কথা হয়েছে। তাঁকেও সরে যেতে বলা হয়েছে।