মা খুন, বাবা-মা হারা শিশুকে নিয়ে চিন্তায় আত্মীয়রা

1432

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: মায়ের মৃত্যুর পর ২৪ ঘন্টাও হয়নি। বাবাও পুলিশি হেফাজতে। বাবা-মা হারা শিশুটি এখন পাড়াপড়শিদের কাছে রয়েছে। কিন্তু এখন প্রতিবেশীরাও অনাথ শিশুদের লালন-পালনে রাজি নন। এই অবস্থায় চরম সংকটের মধ্যে একরত্তি শিশুর ভবিষ্যৎ। আপাতত রায়গঞ্জ থানার কর্ণজোড়া ফাঁড়ির অন্তর্গত শেরপুর গ্রামপঞ্চায়েতের মুকুন্দপুর এলাকার কবিতা বর্মনের একটি ঘরে থমকে রয়েছে এই শিশুর জীবন।

মা খুন হয়েছে ২৪ ঘন্টাও পেরোয়নি। মাকে খুনের দায়ে বাবা একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলার ফলে পুলিশি হেফাজতে। কাল অর্থাৎ শুক্রবার আদালতে তোলা হবে অভিযুক্ত বাবা জতন বৈশ্যকে। বছর তেইশের খুন হওয়া ওই মহিলার নাম মমতা বৈশ্য। তাঁর বাপের বাড়ি কালিয়াগঞ্জের মোস্তাফানগরে। মামারাই মমতাকে বড় করার পাশাপাশি তাঁর বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার বিকেলে মৃতার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করে মৃতার মামা। খুনের অভিযোগে স্বামী জতনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই মুহূর্তে সাত মাসের ওই শিশুর লালন পালন ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আপাতত প্রতিবেশীরাই দেখভাল করছেন। মৃত মহিলার বাবা-মা অনেকদিন আগেই মারা গিয়েছেন। মৃতার মামীর বলেন, ভাগ্নি মারা গেছে তার বাচ্চাকে নিয়ে কি করব। মামারও একই বক্তব্য। তবে এই অবস্থায় বাবা মা হারা ছোট্ট শিশুটির দায়িত্ব কে নেবে তাই নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশীদের কাছে শিশুটি থাকলেও তারাও শিশুটির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছেন।

শিশু কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান অসীম রায় বলেন, ‘ওই শিশুর ভবিষ্যৎ জীবন নিশ্চিত করতে সরকারি হোমে আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’ রায়গঞ্জের বিডিও রাজু লামা বলেন, ‘শিশুটির যদি কেউ দায়িত্ব নিতে না চান তাহলে সরকারি স্পেশালাইজড অ্যাডপটেশন এজেন্সিতে (SAA) ওই শিশুটিকে রাখার ব্যবস্থা করা হবে।’