১৮ কিমি নৌকা চালিয়ে ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছেন রেলু

মুম্বই : করোনায় অচল গোটা ভারতকে সচল রাখতে পথ দেখালেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। চোখের আড়ালে তাঁদের কাজ কত মা ও শিশুর জীবন বাঁচিয়ে দিল, তার খবর কে রাখে! লকডাউনের বাজারেও কিন্তু ভারতজুড়ে শহর ও গ্রামে দেখা গিয়েছে এই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর দলকে, কাঁধে ব্যাগ কিংবা প্লাস্টিকের একটি থলি নিয়ে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ঘুরে বেড়াতে। গ্রামের মানুষকে পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি এবং পরিবার পরিকল্পনার পাঠ দিতে।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে দেশজুড়ে লকডাউন শুরু হয়। ঝাঁপ বন্ধ হয় কলকারখানা থেকে শুরু করে যানবাহন, কর্মক্ষেত্র সব জায়গায়। এমনকি হাসপাতালের মতো জরুরি পরিষেবাগুলিও জোরদার ধাক্কা খায়। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। তবে সবচেয়ে অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয় বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের শিশু, প্রসূতি ও অসুস্থ মহিলাদের। কারণ তাঁদের ভরসা বলতে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। উৎপাদন ও যানবাহনের অভাবে জরুরি ওষুধ ও পথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে প্রত্যন্ত গ্রামে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বেনজির সাহস ও দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের ২৭ বছরের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী রেলু ভাসাবে। আদিবাসী গ্রামের প্রসূতি ও শিশুদের দেখভাল করার দায়িত্ব ছিল তাঁর। সাধারণ দিনে গ্রামবাসীরাই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে ওষুধ-পথ্য নিয়ে যেতেন।

- Advertisement -

লকডাউন শুরু হওয়ায় তাঁদের আসা বন্ধ হয়। কিন্তু মা ও সদ্যোজাতর জন্য তো জরুরি খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দিতে হবে। নিরুপায় সেই তরুণী, রেলু তখন বেছে নেন নদীপথ। মৎস্যজীবীদের কাছ থেকে নৌকা ভাড়া নিয়ে নর্মদায় দুবেলা ১৮ কিলোমিটার দাঁড় বেয়ে তিনি পৌঁছে গিয়েছেন আদিবাসী গ্রাম আলিগত ও দাদারে। দেখভাল করেছেন ৭ জন মা ও ২৫টি শিশুর। রেণুর জন্যই চরম দুর্দিনেও খাদ্য, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য পরিচর্যা থেকে বঞ্চিত হয়নি আদিবাসী গ্রামের মা ও শিশুরা। গত এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত একদিনও ছেদ পড়েনি রেলুর কাজে। রেলু বলছিলেন, ৬ বছরের নীচে বাচ্চা ছাড়াও অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতিদের স্বাস্থ্য, ওজন, শারীরিক অবস্থা সব কিছুর হিসাব রাখতে হয়।

তিনি জানান, সেই অনুয়ায়ী তাঁদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার এবং ওষুধ সরবরাহ করতে হয়। ওই নৌকাতেই যাবতীয় খাদ্য, ওষুধ ও সাজসরঞ্জাম থাকে। তাঁর কথায়, প্রতিদিন এতটা পথ নৌকা বওয়া সহজ নয়। যন্ত্রণায় হাত ছিঁড়ে যায়। পরের দিন তাও যাই। না হলে ওদের দেখবে কে? বেঘোরে মারা যাবে ফুটফুটে বাচ্চাগুলো। যতদিন না করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, আমার লড়াই চলবে। তবে সুখের কথা, রেলুর এই অবিশ্বাস্য লড়াইয়ে খবর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের কানেও পৌঁছেছে। নান্দুরবার জেলা পরিষদের কর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রেলুর মতো অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের যাবতীয় সাহায্য করতে।