জলের তলায় কবরস্থান, বাড়ি যেতে ভরসা নৌকা

জসিমুদ্দিন আহম্মদ, মালদা : নৌকায় চেপে বাড়ি পৌঁছাতে হচ্ছে। জলের তলায় চলে গিয়েছে কবরস্থানও। দুই মাসেও জল নিষ্কাশন সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এই পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটছে যদুপর-১ অঞ্চলের বাসিন্দাদের। এনিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর। কারণ, ১৫ দিনের মধ্যেই যদুপুর-১ অঞ্চলের নিকাশি ব্যবস্থার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন ইংরেজবাজারের বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, আর দশটা প্রতিশ্রুতির মতো সম্ভবত এটিও ভুলে গিয়েছেন বিধায়ক।

প্রাক বর্ষা থেকে জমতে থাকা বৃষ্টির জল এখন বড় দিঘিতে পরিণত হয়েছে। মূল রাস্তার দুধারে জল জমে রয়েছে। আর এই জলেই চলছে টিউবের নৌকা। এই নৌকাতে চেপে এখন বাড়ি পৌঁছাতে হয় যদুপুর কালভার্ট মোড় এলাকার বাসিন্দাদের। এছাড়াও জল জমে রয়েছে জহরপুর, যদুপুর, খাসপাড়া, মডেল কলোনি, লিচুপাড়া, গাবগাছি, নতুনপল্লি এলাকায়। বেশ কিছু এলাকার কবরস্থানও জলের তলায়। বিধায়ক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ব্লক প্রশাসনের কর্তাদের কাছে অভিযোগ জানিয়ে কোনও ফল হয়নি বলে দাবি বাসিন্দাদের। মালদা শহর সংলগ্ন যদুপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাটি শুরু হয়েছে রেগুলেটেড মার্কেটের পর থেকেই। জাতীয় সড়ক ধরে পাতালচণ্ডী মোড় পর্যন্ত দুধারের বিস্তীর্ণ এলাকা যদুপুর-১ অঞ্চলের অন্তর্গত। শহর সংলগ্ন পঞ্চায়েত এলাকা বলে বিগত এক দশকে একাধিক বহুতল গড়ে উঠেছে। জনবসতির ঘনত্বও আর চারটে পঞ্চায়েত এলাকা থেকে একটু বেশি। ফলে এলাকায় রয়েছে জমি মাফিয়াদের দাপট।

- Advertisement -

অপরিকল্পিতভাবে বসতি গড়ে উঠার ফল এখন হাতেনাতে পাচ্ছেন এলাকাবাসীরা। বিশেষ করে যদুপুর স্কুলপাড়া, কালভার্ট মোড় এলাকায় গড়ে ওঠা বাড়িগুলি অপেক্ষাকৃত নীচু এলাকায় বসতি গড়ে ওঠার কারণে জল নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেনি স্থানীয় পঞ্চায়েত। নিকাশি নালা না থাকায় সেই এলাকাগুলিতে বিগত তিন বছর ধরে বর্ষার জল জমতে শুরু করেছে। আগে এই জল নিষ্কাশিত হত মাঝ রাস্তার তল দিয়ে যাওয়া এক কালভার্টের মাধ্যমে। কিন্তু সেই জল গিয়ে পড়ত অন্যের জমিতে। বর্তমানে সেই জমির মালিক তাঁর জমিতে জল ফেলতে দিতে রাজি নন। তাই কালভার্টের মুখ মাটি ফেলে বন্ধ করে দিয়েছেন। এছাড়াও এলাকায় অতি মাত্রায় পুকুর খনন হওয়ায় জল নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। সবমিলিয়ে বিপর্যস্ত জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা। এই এলাকায় আড়াই মাস ধরে জল জমে রয়েছে। এই জমা জলেই বসবাস করে যাচ্ছে বহু পরিবার।

যদুপুর নতুনপল্লি সমাজের মোড়ল মহঃ তাজিকুল ইসলাম বলেন, বাইপাস তৈরি হওয়ার পর থেকে আমাদের এলাকার জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আমাদের বসতি এলাকায় জল একটু কম জমলেও এই জল বাইপাসে ধাক্কা খেয়ে চলে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ আমবাগান ও শস্যখেতগুলিতে। সেখানে তিনটি কবরস্থান আছে। এই কবরস্থানগুলি বর্তমানে জলের তলায়। যদুপুর-১ অঞ্চলের জল নিকাশি ব্যাবস্থা নিয়ে এর আগেও উত্তরবঙ্গ সংবাদে খবর প্রকাশিত হয়। এই খবরের জেরে এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন ইংরেজবাজারের বিধায়ক নীহারঞ্জন ঘোষ, বিডিও সৌভিক চৌধুরী, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ প্রতিভা সিংহ থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা। পরিদর্শনের পর স্থানীয় মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, ১৫ দিনের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তৈরি হচ্ছে মাস্টার প্ল্যান। কিন্তু পরিদর্শনের ১ মাস পার হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনও কাজ হয়নি বলে যদুপুরবাসীর অভিযোগ।

এবিষয়ে ইংরেজবাজারের বিডিওকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে নীহাররঞ্জন ঘোষের বক্তব্য, আমরা এই সমস্যার স্থাযী সমাধানের কথা ভাবছি। মাস্টার প্ল্যান তৈরি করার জন্য জেলা সেচ দপ্তরের বাস্তুকারদের বলা হয়েছে। প্ল্যান তৈরি হয়ে গেলে কাজও শুরু হয়ে যাবে। তবে সেই কাজ কতদূর এগিয়েছে, তা নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি আমরা।