স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকো সংস্কার ঢেপুরঘাটের বাসিন্দাদের

দেওয়ানহাট : কোচবিহার-১ ব্লকের পাটছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ঢেপুরঘাটে ঝলঝলি নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে এই সাঁকো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রশাসন সাঁকো সংস্কারে পদক্ষেপ না করায় মঙ্গলবার এলাকাবাসী নিজেরাই এগিয়ে এলেন। এদিন তাঁরা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে জরাজীর্ণ সাঁকো সংস্কারের পাশাপাশি নদীর কচুরিপানা পরিষ্কার করেন। দীর্ঘদিন ধরে এখানে স্থাযী সেতু তৈরির দাবি জানালেও প্রশাসন সম্পূর্ণ উদাসীন বলে এলাকাবাসীর ক্ষোভ। এই নিয়ে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামার কথা ভাবছেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যাও সেতুর প্রয়োজনীয়তার কথা মেনে নিয়েছেন।

স্থানীয় উত্তর পাটছড়া ও জোড়া হরিমন্দির গ্রামের মাঝ দিয়ে ঝলঝলি নদী বয়ে গিয়েছে। নিত্যদিন স্থানীয় পাকুড়তলা বাজার, সাহেবেরহাট, ডাঙ্গারহাট, গোসানিমারি ও জেলা সদরের দিকে যাতায়াতের ক্ষেত্রে উত্তর পাটছড়ার বাসিন্দারের এই নদী পারাপার করতে হয়। নদী পেরিয়ে এখানকার ছাত্রছাত্রীরা স্কুল-কলেজে যায়। গ্রামের অসুস্থ কোনও ব্যক্তিকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিতেও নদী পারাপার অনিবার্য। উত্তর পাটছড়া, জীবরামেরকুঠি, সন্ন্যাসীরঘাট, পুঁটিমারি ফুলেশ্বরী গ্রাম পঞ্চায়েতের দেউরহাট, বাসারহাট, চিলকিরহাটের একাংশের সাধারণ মানুষ নিত্যদিন এই নদী পেরিয়ে গন্তব্যে যাতায়াত করেন। এতে অনেক দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। এই সাঁকোর বদলে পসারিহাট হয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রায় পাঁচ কিমি দূরত্ব বাড়ে।

- Advertisement -

বর্ষায় বাঁশের এই বেহাল সাঁকো দিয়ে ভরা নদী পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়। কিন্তু বাসিন্দারা নিরুপায়। তাই জীবন জীবিকার প্রয়োজনে এদিন তাঁরা স্বেচ্ছাশ্রমে ক্ষতিগ্রস্ত সাঁকো সংস্কার করলেন। স্থানীয় বাসিন্দা অখিল রায় বলেন, প্রশাসন সাঁকো সংস্কারে পদক্ষেপ না করায় আমরাই এগিয়ে এসেছি। প্রশাসনের ভরসায় বসে থাকলে আমাদের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাবে। দয়ালচন্দ্র দাস বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা সেতুর দাবি জানিয়ে আসছি। ভোটের আগে নেতারা দাবি পূরণের আশ্বাস দেন। কিন্তু তারপরে আর কেউ এ বিষয়ে পদক্ষেপ করেন না। নীরেনচন্দ্র দে, শ্যামল রায় জানান, বহু আবেদন-নিবেদন করেও এখানে সেতু তৈরি হয়নি। তাই নিজেদের প্রয়োজনে তাঁরা এবার বৃহত্তর আন্দোলনের কথা ভাবছেন।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা সমতা দাস বলেন, ঢেপুরঘাটে সেতু তৈরির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকার কয়েকহাজার মানুষ উপকৃত হবেন। এ বিষয়ে আমরা উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী ও জেলা পরিষদে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছি। স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকো সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে সাঁকো সংস্কার করা হয়। এদিন এলাকাবাসীর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।