মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, দাবি রাজ্যের

90

কলকাতা: ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রদত্ত রিপোর্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে হাইকোর্টে উল্লেখ রাজ্যের। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের ৫ বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চে রাজ্যের তরফে অভিষেক মনু সিংভি বলেন, ‘রিপোর্টে বহু ঘটনার উল্লেখ রয়েছে যা ভোট পরবর্তী ঘটনা নয়। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের কাছে যত অভিযোগ জমা পড়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই রিপোর্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।‘ এর পালটা মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী মহেশ জেট মালানি বলেন, ‘পুলিশ বহু জায়গায় অভিযোগ প্রত্যাহারের হুমকি দিচ্ছে। এই পুলিশ আক্রান্তদের প্রতি সুবিচার করবে কি করে? গুজরাত দাঙ্গার মতো পরিস্থিতি রাজ্যে। অবিলম্বে নিরপেক্ষ সংস্থা দিয়ে তদন্ত করানো প্রয়োজন।‘

রাজ্যের এডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টের সমস্ত অংশ রাজ্য সরকার সহ মামলার অন্যান্য পক্ষকে দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগের বিবরণ আছে যে অংশে আছে সেই অংশ দেওয়া হয়নি। এই বক্তব্য যদি তাদের না জানানো হয় তারা উত্তর দেবেন কিভাবে? রাজ্যে আক্রান্তদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ কী ব্যবস্থা গ্রহন করেছে সেই ব্যাপারে বিস্তারিত হলফনামা জমা দিতে চায় আদালতকে। ৫ বিচারপতির বেঞ্চ রাজ্যের সেই আর্জিতে সম্মতি জানিয়েছে। ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে রাজ্যকে বিস্তারিত হলফনামা পেশ করতে হবে আদালতে। ২৮ জুলাই ফের এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।’

- Advertisement -

এ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল বলেন, ‘ধর্ষণ সংক্রান্ত ঘটনার রিপোর্ট অত্যন্ত গোপনীয়। তাই ওই রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি এই বিষয়ে এখনই কোনও তদন্ত করা হচ্ছে না।‘ পাশাপাশি বিচারপতি সুব্রত তালুকদার রাজ্যের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, ‘রাজ্যের কাজ অভিযোগ পেলে তদন্ত করা? নাকি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যে রিপোর্ট দিয়েছে শুধুমাত্র তার ভিত্তিতে পদক্ষেপ করে তার উত্তর দেওয়া?’

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই ৫ বিচারপতির বেঞ্চের নির্দেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিযুক্ত বিশেষ কমিটি ৩৫০০ পাতার রিপোর্ট দেয় আদালতে। তারমধ্যে থেকে ৫০ পাতার একটি রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়েছিল। রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা খতিয়ে দেখার পর  সেই রিপোর্টে কমিশন নিযুক্ত কমিটি সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করে। পাশাপাশি রাজ্যের শাসকদলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা নেত্রীকে দুষ্কৃতীদের তালিকা ভুক্ত করেছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তালিকায় নাম ছিল উদয়ন গুহ, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, শেখ সুফিয়ান, জীবন সাহা, শওকত মোল্লা সহ একাধিক নেতৃত্ব।