নমুনা সংগ্রহের ২৫ দিন পর রিপোর্ট এল পজিটিভ, আক্রান্তকে আনতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে স্বাস্থ্যকর্মীরা

3195

রায়গঞ্জ: নমুনা সংগ্রহের ২৫ দিন পর এক যুবকের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এল। মঙ্গলবার মারাইকুরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ওই যুবককে আনতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা বিক্ষোভে মুখে পড়েন।

মে মাসের ১৪ তারিখে হরিয়ানার গুরগাঁও থেকে ফিরেই রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফিভার ক্লিনিকে যান ওই শ্রমিক। সেখানে তাঁর লালার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু রিপোর্ট মেলেনি। মঙ্গলবার হঠাৎই ভিনরাজ্য ফেরত ওই শ্রমিকের বাড়িতে স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরা গিয়ে হাজির হন। তাঁরা জানান, লালা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তাই তাঁকে কোভিড হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। রায়গঞ্জ থানার মারাইকুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

- Advertisement -

ওই শ্রমিকের বক্তব্য, গত মাসের ১৪ তারিখে আমার লালার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রায় তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও রিপোর্ট হাতে পাইনি। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে শুধুমাত্র বলা হয়েছিল, ১৪ দিন হোম কোয়ারান্টিনে থাকলেই হবে। চলতি মাসের ১ তারিখে আমার বাড়িতে একটি অনুষ্ঠান হয়। সেই অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০ জনকে নেমন্তন্ন করা হয়েছিল। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সমস্ত জায়গায় অবাধে মেলামেশা করেছি। এদিন আচমকাই আমাকে ফোন মারফত বলে, ‘আমার করোনা পজিটিভ এসেছে।’ রিপোর্ট দেখতে চাইলে দেখানো হচ্ছে না।

ভিন রাজ্য ফেরত ওই শ্রমিকের প্রশ্ন, হোম কোয়ারান্টিনে থাকার সময় কেন রিপোর্ট এল না? রায়গঞ্জ ব্লক সহ উত্তর দিনাজপুর জেলা জুড়েই এমনই ঘটনার ছড়াছড়ি। সম্প্রতি যাদেরকে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসার পরে কোভিড হাসপাতলে ভর্তি করছে তারা রীতিমতো দুই সপ্তাহ হোম কোয়ারান্টিনে কাটিয়ে বাহিরমুখী হয়েছিলেন। তারপর রিপোর্ট পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। কারণ অত দিনে অনেকের সংস্পর্শে চলে গিয়েছেন। সময়মত রিপোর্ট না আসার ফলে এভাবেই বেড়েছে সংক্রমিতের সংখ্যা।

এদিকে রায়গঞ্জ থানার অভোর গ্রামে নাম ও বয়স বিভ্রাটের জেরে এক মহিলার পরিবর্তে অন্য মহিলাকে করোনা পজিটিভ বলে স্বাস্থ্য দপ্তরের গাড়িতে তুলতে যায়।

দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। চারজন স্বাস্থ্যকর্মীকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে গ্রামবাসীরা। ওই মহিলার স্বামীর বক্তব্য, দিন কয়েক আগে হরিয়ানার গুরগাঁও থেকে পরিবার-পরিজনদের নিয়ে বাড়ি ফেরে। চলতি মাসের ৪ তারিখে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের ফিভার ক্লিনিকের চিকিৎসককে দেখান। চিকিৎসক হোম কোয়ারান্টিনে থাকার কথা বললেও লালার নমুনা নেওয়া হয়নি ওই গৃহবধূর কাছ থেকে। এদিন ওই গৃহবধূর বাড়িতে হাজির স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরা। এতেই এলাকায় যাবতীয় গণ্ডগোলের সূত্রপাত।

এদিকে বিক্ষোভের আটকে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীদের বক্তব্য, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে একটি রিপোর্ট আসে। সেই রিপোর্টে লেখা রয়েছে ৫৬ বছরের এক গৃহবধূ অভোর গ্রামের বাসিন্দা করোনায় আক্রান্ত। আধার কার্ড ও নামের কিছুটা অংশ মিললেও বয়স না মেলায় আমাদের ঘেরাও করার পাশাপাশি বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে গ্রামবাসীরা।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টা স্বাস্থ্যকর্মীদের আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। পঞ্চায়েত দপ্তরের আধিকারিক ও গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এদিকে করোনা পজিটিভ রোগীকে না নিয়েই বিকেল চারটের নাগাদ খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয় স্বাস্থ্য কর্মীদের।

অন্যদিকে দিনকয়েক আগে কালিয়াগঞ্জের এক যুবক সরকারি কোয়ারেন্টিন সেন্টার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বাবার সঙ্গে বাজারে মাংস বিক্রি করে। পরে ওই যুবকের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ায় চক্ষু চড়কগাছ হয়েছে অনেকের। ওই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য দপ্তরের তৎপরতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেন, কিছুদিন আগে রিপোর্ট পেন্ডিং থাকায় সমস্যা হচ্ছিল। সেটা মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিন রায়গঞ্জ থানার মারাইকুরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার অভোর গ্রামে চারজন স্বাস্থ্যকর্মীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখায় গ্রামবাসীরা। এটা ঠিক নয়। স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীদেরও সহযোগিতা করতে হবে।

এদিকে রায়গঞ্জ ব্লকের ভিন রাজ্য ফেরত প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিকের লালার নমুনার পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে রীতিমত আতঙ্কে রয়েছে ভিন রাজ্য ফেরত শ্রমিকেরা।