একজনের দু’বার করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা

325
প্রতীকী ছবি।

নয়াদিল্লি: কেউ কি দু’বার করোনা সংক্রামিত হতে পারেন? এই বিতর্কের এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ু সরকার করোনামুক্তদের চিকিৎসায় সহায়ক হিসেবে নিযোগ করার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানা গিয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, এতে হিতে বিপরীত হবে না তো? বিতর্কের মীমাংসা করতে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর) এই ব্যাপারে গবেষণার প্রস্তাব দিয়েছে। করোনা সংক্রমণ কারোর দেহে দু’বার হতে পারে কিনা, তা জানতেই এই প্রস্তাব দিয়েছে আইসিএমআর-এর এক বিশেষজ্ঞ দল। চিনের উহানে দ্বিতীয়বার সংক্রমণের নজির আছে বলে খবর পাওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এই গবেষণার সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গের মডেল অন্য রাজ্যেও ব্যবহার করা হবে কিনা।

বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা নানাভাবে কাজ করে। কখনও কখনও প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী হয়, আবার কখনও দীর্ঘস্থায়ী হয়। যে কোনও সংক্রমণ একবার হলে দেহে তার প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। দ্বিতীয়বার ওই একই সংক্রমণের শিকার হলে শরীর নিজেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। কিছুক্ষেত্রে ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী হয়। যেমন বিভিন্ন ধরনের ফ্লু। ফ্লু-এর ভাইরাস দ্রুত নিজের চরিত্র পাল্টায়। তাই এই সংক্রমণ বারবার ফিরে আসতে পারে। কিন্তু চিকেন পক্সের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী। এজন্য প্রায় কারোরই দ্বিতীয়বার চিকেন পক্স হয় না। কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলে বহু লোকের মধ্যে একই ধরনের সংক্রমণ হলে সেই এলাকায় প্রায় সকলের শরীরে দীর্ঘস্থায়ী রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। কিন্তু করোনার ক্ষেত্রে ঠিক কী হচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট নয় বিশেষজ্ঞদের কাছে।

- Advertisement -

সুইডেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় এই ব্যাপারে সম্প্রতি প্রায় ২০০ জন করোনা সংক্রামিতের ওপর গবেষণা করেছে। ওই গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, দেহে অ্যান্টিবডির অনুপস্থিতিতেও সংক্রমণমুক্তদের দেহে ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে। ওই সংক্রমণ প্রতিরোধক ব্যবস্থা গড়ে ওঠার পিছনে শরীরে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে টি-সেল। এই সেলটি এক ধরনের মেমোরি সেল। যার ফলে সংক্রামিতের দেহে অ্যান্টিবডির ক্ষমতা কমে গেলেও দুশ্চিন্তার কিছু থাকে না। এই টি-সেল দীর্ঘদিন ভাইরাসের হাত থেকে সেই সংশ্লিষ্ট লোকটিকে সুরক্ষা দেয়। শুধু ভাইরাল নয়, ফাঙ্গাল, ব্যাকটেরিয়াল ইত্যাদি সমস্তরকম সংক্রমণেই এই টি-সেলের নিয়ন্ত্রণ থাকে। করোনার ক্ষেত্রে টি-সেলের নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে বিশদে জানাই এখন আইসিএমআর-এর বিশেষজ্ঞদের কাছে চ্যালেঞ্জ।

করোনামুক্তদের হাসপাতালের কাজে ব্যবহারের যে পরিকল্পনা পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু নিচ্ছে, তাতে চিকিৎসায় লোকবলের অভাব অনেকটাই মিটতে পারে। কিন্তু তাঁদের সংস্পর্শ কতটা নিরাপদ, এই ব্যাপারে এখনও কেউ নিশ্চিত নয় বলেই গবেষণার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।