অর্ণব চক্রবর্তী, ফরাক্কা: গঙ্গার উচ্চগতিতে, নদীর মধ্যভাগে কীভাবে ইলিশের উত্পাদন বাড়ানো যায়, তা নিয়ে যৌথভাবে গবেষণা শুরু করেছে সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিআইএফআরআই) ও ব্যারাকপুর ফিশারি। এই গবেষণা চলছে ফরাক্কায় এবং গবেষণা সফল হলে ভবিষ্যতে গঙ্গায় রুপালি শস্যের ঢল নামবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। ফরাক্কা ব্যারেজের কাছে একটি জায়গা বেছে সেখানে ফিশারি গ্রাউন্ড তৈরি করে ইলিশের গায়ে ট্যাগ লাগিয়ে এই গবেষণা চলছে। এখনও পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজারের বেশি মাছ সেখানে ছাড়া হয়েছে। এখন প্রতিদিন গড়ে তিনশোর কিছু বেশি মাছ সেখানে ছাড়া হচ্ছে। ডিমওয়ালা ২২৩ থেকে ৩৪৫ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট ইলিশ মাছের গায়ে সিরিয়াল নম্বর দিয়ে ট্যাগ লাগানো হচ্ছে।

সেন্ট্রাল ফিশ রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ব্যারাকপুর) সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার উচ্চগতিতে নদীর মধ্যভাগে ইলিশের উত্পাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেই মাছের গায়ে ট্যাগ লাগানো হচ্ছে। এই গবেষণার আরেকটি উদ্দেশ্য হল, গঙ্গায় ইলিশের পরিযায়ী পদ্ধতিকে বোঝার চেষ্টা করা। এর পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্যের দুটি দল ফরাক্কা থেকে এলাহাবাদ পর্যন্ত গঙ্গার দুপাশের বিভিন্ন রাজ্য, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের সুলতানগঞ্জ, রাজমহল, ভাগলপুর, পাটনা, বক্সার, বালিয়া, বেনারস ও প্রয়াগরাজের মানুষকে ইলিশের জীবনধারণ সম্পর্কে সচেতন করছে। বিশেষত মত্স্যচাষি ও ব্যবসায়ীদের ইলিশ নিয়ে বেশি সচেতন করা হচ্ছে।

কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যার গবেষক শুভশ্রী পাল বলেন, ফিশারি গ্রাউন্ড তৈরি করার মানে- একটা সীমাবদ্ধ এলাকায় মাছ ছাড়া হচ্ছে। মাছের গায়ে মার্কিং করা হচ্ছে যাতে তাদের গতিবিধি লক্ষ করা যায়। এর মাধ্যমে কোথা থেকে তারা কোথায় যাচ্ছে সেটা জানতে পারা যাবে। হাতিদের যেমন করিডর থাকে নদীতে মাছেদের তেমন ফিশপাস থাকে। এই করিডর দিয়ে সমুদ্রের মাছ ডিম পাড়ার জন্য নদীতে আসে। গঙ্গায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ফিশপাস খোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেগুলি নানা কারণে, যেমন, দূষণ বা নদীভাঙনের জন্য, বন্ধ হয়ে য়েতে পারে।

সিআইএফআরআই-র সিনিয়ার বিজ্ঞানী ডঃ এ কে সাহু বলেন, ফরাক্কায় ইলিশের ট্যাগিং-এর মাধ্যমে আমরা গঙ্গার আপস্ট্রিমে নদীর মধ্যভাগে ইলিশের মাইগ্রেশন সম্পর্কে জানতে পারব। ইলিশের গড় উত্পাদন ক্ষমতা অর্থাত্ এক-একটি মাছ কতটা ডিম ধারণ করেছে তাও জানা যাবে। প্রজননক্ষম ইলিশের ঝাঁক গঙ্গার আপস্ট্রিমে অবাধে বিচরণ করতে পারছে কি না, এই গবেষণার মাধ্যমে আমরা তা জানতে পারব। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রকের ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গার উদ্যোগে গত সেপ্টেম্বর থেকে এই কাজ শুরু হয়েছে। সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন, ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়ে অথরিটি, ফরাক্কা ব্যারেজ এবং সেন্ট্রাল ফিশ রিসার্চ ইনস্টিটিউট মিলিতভাবে গঙ্গার উপরিভাগে ইলিশের উত্পাদন বাড়াতে পারে।